যে ইচ্ছাকৃত কোন মুমিনকে হত্যা করবে! বিস্তারিত পোস্টে দেখুন

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি
যে ইচ্ছাকৃত কোন মুমিনকে হত্যা করবে! বিস্তারিত পোস্টে দেখুন


ইচ্ছাকৃত মানুষ হত্যার ব্যপারে আল্লাহ্‌ বলেনঃ-

وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا ﴿٩٣﴾

'' যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে ইচ্ছাপূর্বক হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম। যাতে স্থায়ীভাবে থাকবে, তার উপর আল্লাহর ক্রোধ ও অভিসম্পাত। আল্লাহ তার জন্য মহাশাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। '' (সূরা আন-নিসা ৪ঃ৯৩)

এটা ইচ্ছাকৃত হত্যা করার শাস্তি। হত্যা তিন প্রকারেরঃ 
(ক) ভুলক্রমে হত্যা (যা পূর্বের আয়াতে উল্লেখ হয়েছে)। (খ) প্রায় ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা। (এমন জিনিস দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, যা দিয়ে সাধারণতঃ হত্যা করা যায় না।) যা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। 
(গ) ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা। অর্থাৎ, হত্যা করার ইচ্ছা ও নিয়ত করে হত্যা করা এবং এর জন্য সেই অস্ত্রও ব্যবহার করা হয় যা দিয়ে বাস্তবিকই হত্যা করা হয়। যেমন, তরবারী, খঞ্জর ইত্যাদি। আয়াতে মু’মিনকে হত্যা করার অতীব কঠিন শাস্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, তার শাস্তি হল সেই জাহান্নাম, যাতে সে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে। অনুরূপ সে আল্লাহর ক্রোধের শিকার হবে এবং তাঁর অভিসম্পাত ও মহা শাস্তিও তার উপর আপতিত হবে। একই সাথে এতগুলো কঠিন শাস্তির কথা অন্য কোন পাপের ব্যাপারে বর্ণিত হয়নি। এ থেকে এ কথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, একজন মু’মিনকে হত্যা করা কত বড় অপরাধ।

নিরপরাধ একজন মানুষ হত্যা পুরো মানবজাতিকে হত্যাযজ্ঞ অপরাধ ! আল্লাহ্‌ বলেনঃ-

'' যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করা কিংবা যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করা ছাড়া যে কাউকে হত্যা করল, সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল। আর যে তাকে বাঁচাল, সে যেন সব মানুষকে বাঁচাল।'' (সূরা মায়েদা ৫ঃ৩২)

এই অন্যায়ভাবে হত্যার পর, মানুষের প্রাণের মূল্য যে কত বেশী ও তার মর্যাদা যে কত বড়, তা পরিষ্কারভাবে আল্লাহ বানী ইস্রাঈলের উপরে এই নির্দেশ অবতীর্ণ করে বলে দিয়েছেন। যার দ্বারা এই অনুমান করা যায় যে, আল্লাহর নিকট মানুষের রক্তের গুরুত্ব ও মর্যাদা কত ! আর এই নীতি শুধু বানী ইস্রাঈলদের জন্য ছিল না; বরং ইসলামী মূলনীতি মোতাবেক এই নীতি চিরস্থায়ী সকলের জন্য।

রাসূলুল্লাহ (স) বলেন-
''কবীরা গোনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গোনাহ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করা, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা কথা বলা।'’ (সহীহ মুসলিম হাদিস-৮৮) অপর এক হদীসে নবী করীম (স) ইরশাদ করেন-‘দুনিয়া ধ্বংস করার চেয়েও আল্লাহর কাছে ঘৃণ্যতর কাজ হলো মানুষ হত্যা করা।’ (তিরমিযী)

নিরীহ মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার চেয়ে ভয়াবহ পাপ আর নেই। ইসলামী শরীয়াহ মতে পৃথিবীর সব মানুষ মিলে যদি একটি অন্যায় হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে কিয়ামতের দিন সবাইকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে।

নবী করীম (স) বলেন- ''যদি আসমান ও জমীনের সব অধিবাসী একজন মুসলমানকে অন্যায়ভাবে হত্যার জন্য একমত হয়, তবে আল্লাহ তাদের সবাইকে অবশ্যই জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। '' (মুসনাদে আহমাদ)

হাশরের ময়দানে অন্যায় হত্যাকাণ্ডের মোকদ্দমা দিয়েই আল্লাহ তাঁর বিচারকার্য শুরু করবেন। হাদীস শরীফে এসেছে- '' কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে মোকদ্দমার ফায়সালা হবে তা হলো- রক্তপাত বা হত্যা সম্পর্কিত। '' (বুখারী শরীফ হাদীস-৬৩৫৭)

ইসলামের সোনালী যুগে প্রতিটি জনপদ নিরাপদে ছিল। একজন নারী সুসজ্জিত অলঙ্কার পরে একাকী নিরাপদে রাত দুপুরে তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারতেন। তখন সংখ্যালঘুদের জান-মালেরও পূর্ণ নিরাপত্তা ছিল। কোরআন এবং আল্লাহর নবীর (স) শিক্ষা তখনকার মানুষকে এই অবস্থায় নিয়ে এসেছিল। আল-কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নানাভাবে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ বলেন- '' নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না। '' (সূরা কাসাস- ৭৭)

অনুরোধ রইলো পোস্টটি শেয়ার করুন। যাতে সমাজের কোন মানুষ পশুতে রুপান্তর হবার আগেই আল্লাহ্‌র আয়াত মনে পড়ে একটু ভয় করে। সবাইকেই তো একদিন চলে যেতে হবে দুনিয়া ছেড়ে। ক্ষমতা,ধনসম্পদ,কিছুই সেদিন থাকবে না। হয়তো তার আগেই আমার ভাইবোনেরা শুধরে নিবে। মানুষের সাথে সম্পৃক্ত একটি গুনাও আল্লাহ্‌ মাফ করবেন না। মানুষের কাছেই মাফ নিয়ে মরতে হবে। সাবধান !!!
আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

Post a Comment

0 Comments