তাহাজ্জুদ সম্পর্কিত কিছু বানী কুরআন ও হাদিস থেকে

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি
তাহাজ্জুদ সম্পর্কিত কিছু বানী . কুরআন ও হাদিস থেকে

লেখাঃ মোহাম্মদ আলি হামজা (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

কুরআন এর বানীঃ
রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ নামায পড়; এ তোমার জন্য একটি অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে মাকামে মাহ্‌মূদে (প্রশংসিত স্থানে) প্রতিষ্ঠিত করবেন। (কুরআন  ১৭ঃ৭৯)

হে বস্ত্র আচ্ছাদনকারী (নবী)! উপাসনার জন্য রাত্রিতে উঠ (জাগরণ কর); রাত্রির কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা অল্প। অথবা তদপেক্ষা বেশী।(সূরা মুযাম্মিল)

"তারা তাদের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দন্ডায়মান থেকে রাত্রি অতিবাহিত করে।" (২৫ঃ৬৪)

"রাত্রিতে তাঁর প্রতি সিজদাবনত হও এবং রাত্রির দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।” (কুরআন ৭৬ঃ২৬)

কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান রাখে, যারা ওর দ্বারা উপদিষ্ট হলে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং অহংকার করে না। তারা শয্যা ত্যাগ করে আশায় ও আশংকায় তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা হতে তারা ব্যয় করে। (আস সাজদাঃ ১৫,১৬)

যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সিজদাবনত হয়ে এবং দন্ডায়মান থেকে ইবাদত করে, পরকালকে ভয় করে এবং তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে (সে কি তার সমান, যে তা করে না?) বল, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা উভয়ে কি এক সমান? বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। (আয যুমারঃ৯)

"রাতের সামান্য পরিমাণ তাঁরা নিদ্রারত থাকেন, শেষ রাতে তাঁরা ইসতিগফার করেন।’’ (সূরাহ্ আয্-যারিয়াত ৫১/১৮)

হাদীসের বানীঃ
রমযানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোযা হল আল্লাহর মাস মুহার্রামের রোযা। আর ফরয নামাযের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামায হল রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায।” (মুসলিম, সহীহ ১১৬৩নং]

হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ) এর বাণী হতে সর্বপ্রথম যা শুনেছি তা হল, “হে মানুষ! তোমরা সালাম প্রচার কর, অন্নদান কর, জ্ঞাতি-বন্ধন অক্ষুন্ন রাখ এবং লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তোমরা নামায পড়। এতে তোমরা নিবিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” (তিরমিযী, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক,সহিহ তারগিব ৬১০নং)

হযরত জাবের (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “রাত্রিকালে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে যখনই তা লাভ করে মুসলিম ব্যক্তি ইহ্‌-পরকালের কোন কল্যাণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে তখনই তিনি তাকে তা প্রদান করে থাকেন। অনুরুপ প্রত্যেক রাত্রিতেই ঐ মুহূর্ত আবির্ভূত হয়ে থাকে।” (মুসলিম, সহীহ ৭৫৭নং)

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) ও  আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেছেন, “কোন ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীকে রাত্রে ঘুম থেকে জাগিয়ে উভয়ে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে অথবা দুই রাকাআত নামায পড়ে তখন তাদের প্রত্যেকের নাম (আল্লাহর) যিক্‌রকারী ও যিক্‌রকারিণীদের তালিকাভুক্ত হয়।” (আবূদাঊদ, সুনান, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, ইবনে হিব্বান, সহীহ,হাকেম, মুস্তাদরাক সহিহ তারগিব ৬২০ নং)

হযরত আবু দারদা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ ভালোবাসেন, তাদের প্রতি (সন্তুষ্ট হয়ে) হাসেন এবং তাদের কারণে খুশী হন; (প্রথম) সেই ব্যক্তি যার নিকট স্বদলের পরাজয় প্রকাশ পেলে নিজের  জান দিয়ে আল্লাহ আয্‌যা অজাল্লার ওয়াস্তে যুদ্ধ করে। এতে সে হয় শহীদ হয়ে যায় নতুবা আল্লাহ তাকে সাহায্য (বিজয়ী) করেন ও তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হন। তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমার এই বান্দাকে তোমরা লক্ষ্য কর, আমার জন্য নিজের প্রাণ দিয়ে কেমন ধৈর্য ধরেছে?’

(দ্বিতীয়) সেই ব্যক্তি যার আছে সুন্দরী স্ত্রী এবং নরম ও সুন্দর বিছানা। কিন্তু সে (এসব ত্যাগ করে) রাত্রে উঠে নামায পড়ে। এর জন্য আল্লাহ বলেন, ‘সে নিজের প্রবৃত্তিকে দমন করে আমাকে স্মরণ করছে, অথচ ইচ্ছা করলে সে নিদ্রা উপভোগ করতে পারত।’

আর (তৃতীয়) সেই ব্যক্তি যে সফরে থাকে। তার সঙ্গে থাকে কাফেলা। কিছু রাত্রি জাগরণ করে সকলে ঘুমেঢলে পড়ে। কিন্তু সে শেষরাত্রে উঠে কষ্ট ও আরামের সময় নামায পড়ে।” (ত্বাবারানী কাবীর, সহীহ তারগীব ৬২৩ নং)

আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ১০টি আয়াত নামাযে পড়ে সে উদাসীনদের তালিকাভুক্ত হয় না, যে ১০০টি আয়াত নামাযে পড়ে সে আবেদদের তালিকাভুক্ত হয়। আর যে ১০০০টি আয়াত নামাযে পড়ে সে অজস্র সওয়াব অর্জনকারীদের তালিকাভুক্ত হয়।” (আবু দাঊদ, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ তারগীব ৬৩৩ নং)

মহানবী (সাঃ) বলেন, “আমার কাছে জিবরীল এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! যত ইচ্ছা বেঁচে থাকুন, আপনি মারা যাবেনই। যাকে ইচ্ছা ভালো বাসুন, আপনি তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন। যা ইচ্ছা তাই আমল করুন, আপনি তার বদলা পাবেন। আর জেনে রাখুন, মুমিনের মর্যাদা হল তাহাজ্জুদের নামাযে এবং তার ইজ্জত হল লোকেদের অমুখাপেক্ষী থাকায়।” (ত্বাবরানী, হাকেম, মুস্তাদরাক, বায়হাকী, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ৮৩১নং)

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (৬৩২১, ৭৪৯৪; মুসলিম ৬/২৩, হাঃ ৭৫৮, আহমাদ ৭৫৯৫)

আল্লাহ সবাইকে তাহাজ্জুদ এর নামাজ কায়েম করার তওফিক দিন..
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂

Post a Comment

0 Comments