জঙ্গী কি শুধু মুসলিমদের জন্যই সীমাবদ্ধ একটি শব্দ?

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি
জঙ্গী কি শুধু মুসলিমদের জন্যই সীমাবদ্ধ একটি শব্দ?

লেখাঃ মুহা. রচি আহমেদ বিন মনজুর (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

নিপীড়িত মুসলিমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে হয়ে যায় জঙ্গী।

নিজের জন্মভূমিতে থেকেও যখন অসহায়ের মত জীবন-যাপন করতে হয়, দস্যুদের শোষণ থেকে বাঁচতে যখন প্রতিবাদ করে তখন হয়ে যায় জঙ্গি।

নিজের চোখের সামনে নিজের সন্তান, পরিবার-পরিজনকে যখন জালিমদের হাত থেকে বাঁচাতে না পেরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে চায় তখন হয়ে যায় জঙ্গী।

পৃথিবীতে এই একটি মাত্র শব্দ শুধু মুসলিমদের বেলায়ই প্রযোজ্য। মারগুতা খেয়ে মরতে মরতে শেষ হয়েও যেন মুসলিমদের কোন প্রতিবাদ করতে নেই। এরা শুধুই চুপ করে সহ্য করবে। কোন প্রতিবাদ করবে না। এদের কোন প্রতিবাদ করার অধিকার নেই।

পুরো পৃথিবীতে জালিমদের অত্যাচারে মুসলিমদের আজ কি করুন দশা, আর তবুও বিশ্ববাসী ঐ মুসলিমকে জঙ্গি বলে তৃপ্তির ঢেকুর ফেলে।

কেউ আদৌ 'জঙ্গী' শব্দের প্রকৃত ব্যাখ্যা জানেন? বিজ্ঞ কেউ কি বোঝাতে পারেন আমাদের আসলে জঙ্গী মানে কি? আর আদৌ মুসলিমরা যারা নিজেদের ভু-খন্ড, নিজেদের পরিবার, নিজেদের সম্পদের জন্য লড়াই করে এটাতে তাদের জঙ্গী বলা হয় কেনো?

জঙ্গী কি শুধু মুসলিমদের জন্যই সীমাবদ্ধ একটি শব্দ?

যেখানে মহান আল্লাহ একটি নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করাকে কতটা ভয়ংকর বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেখানে আল্লাহ বলেন, 'নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে দুনিয়ার সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল আর কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করল।' (সুরাহ মায়িদা, আয়াত : ৩২)

আল্লাহ বলেন, 'কোনো মুমিনের জন্য সমীচীন নয় যে সে অন্য মুমিনকে হত্যা করবে, অবশ্য ভুলবশত করে ফেললে অন্য কথা।...আর কেউ স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন ও তাকে অভিশপ্ত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।' (সুরাহ আন-নিসা, আয়াত : ৯২-৯৩)

বিদায় হজের ভাষণে আমাদের প্রিয় মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সকল মানবজাতির উদ্দেশ্যে বললেন, 'আজ এই পবিত্র দিনে (বিদায় হজের দিন) পবিত্র মাসে এবং পবিত্র (মক্কা) শহরে তোমাদের জন্য যেমন (যুদ্ধবিগ্রহ ও অপকর্ম করা) অবৈধ, তেমনিভাবে তোমাদের জান ও মাল বিনষ্ট করাও অবৈধ।' (সহীহ বুখারি : ১৭৪১ ও সহীহ মুসলিম : ১৬৭৯)

সেখানে আমরা মুসলিমরা কীভাবে জঙ্গী হই?

যদি বলা হয় মুসলিমরা নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে, পৃথিবীতে ফেতনা-ফাসাদ তৈরি করে; আমি বলতে পারি তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহর কসম করে একজন প্রকৃত মুসলিম কোনদিনই কিয়ামত অবধি এমনটি করেনি, আর করবেও না ইন শা আল্লাহ।

আদৌ যদি কোন মুসলিম কোন নিরপরাধ কোন মানুষকে অকারণে হত্যা করে থাকে - তাহলে আল্লাহ তাকে দ্বিগুন শাস্তি দেবেন। আল্লাহ বলেন, '(রহমানের বান্দা তারাই) যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্যের ইবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সংগত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না। যারা এ কাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুণ হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে।' (সুরাহ আল-ফুরকান : ৬৮-৬৯)

এত কিছু বলার পরেও যদি কারো অন্তরে মনে হয়ে থাকে মুসলিম একজন ব্যক্তি সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই সে জঙ্গি তাহলে সেটা ভুল। একজন মুসলিম সে কোনদিনই জঙ্গি হতে পারে না।

পুরো দু-চোখ থেকে কাঠের চশমা খুলে দেখুন কাশ্মীর, চীন (ইউঘুর), সিরিয়া থেকে শুরু করে পুরো পৃথিবীতে শুধু মুসলিমদের উপরেই নির্যাতন করা হচ্ছে। আর মুসলিমরা সহ্য করতে করতে কেউ জালিমদের অত্যাচারে শহীদ হয়ে যাচ্ছে। কেউবা আবার প্রতিবাদ করলে দুনিয়ার কাছে জঙ্গী হয়ে যাচ্ছে..

আমাদের রব ও আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেউই আমাদের অন্যায় সইতে শেখায়নি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন...

শেয়ার করুন, বন্ধুদের সাথে ইন শা আল্লাহ !

Post a Comment

0 Comments