মানব জাতির সেই কুরবানির বিধানটি অতীব প্রাচীন।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি
মানব জাতির সেই কুরবানির বিধানটি অতীব প্রাচীন।

কালের পরিক্রমায় হিজরী বর্ষপুঞ্জির পরিসমাপ্তির পর বছরান্তে আমাদের দ্বারপ্রান্তে আগমন করে কুরবানির দিনগুলো। যা সমগ্র মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। যেমন- মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানির নিয়ম করে দিয়েছি। যাতে তাদেরকে জীবনোপকরণস্বরূপ যেসব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি সেগুলোর উপর তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।” (সূরাহ হজ্জ, আয়াত : ৩৪)

মানব জাতির সেই কুরবানির বিধানটি অতীব প্রাচীন।

বস্তুত মানব ইতিহাসে সর্বপ্রথম কুরবানি হযরত আদম (আঃ) এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল এর দেয়া কুরবানি থেকেই কুরবানির ইতিহাসের গোড়াপত্তন হয়। যেমন- পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, “হে রাসূল আপনি আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত আপনি তাদেরকে যথাযথভাবে শোনান। যখন তারা উভয়েই কুরবানি করেছিল। তাদের একজনের কুরবানি কবুল হলো। অন্যজনের কুরবানি কবুল হলো না।” (সুরাহ মায়েদাহ, আয়াত : ২৭)

অবশ্য আমাদের উপর যে কুরবানির বিধান প্রচলিত হয়ে আসছে তা হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর আত্মত্যাগের ঘটনারই স্মৃতিবহ। ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহর রাহে যে কুরবানি করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে তা দৃষ্টান্তহীন। আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগের কথা। স্বপ্নাদৃষ্ট হলেন আল্লাহর প্রিয় খলিল হযরত ইবরাহীম (আঃ) কুরবানি করতে। তিনি পশু কুরবানি করলেন একটির পর একটি। কিন্তু সে কুরবানি তার প্রতিপালকের নিকট গৃহীত হলো না।

হযরত ইবরাহীম (আঃ) নির্দেশ পেলেন এমন বস্তু কুরবানি করতে যা তার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। কী সেই প্রিয় জিনিস? হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু তো স্বীয় পুত্র ইসমাঈল। তবে কি তার মহান প্রভু ইবরাহীম ও হাজেরার পরম আদরের সন্তান ইসমাইল এর কুরবানি চান? আল্লাহর আদেশ ছিল অতি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।

সন্দেহেরও কোন অবকাশ ছিল না তাতে। হযরত ইবরাহীম (আঃ) স্তম্ভিত না হয়ে আল্লাহর আদেশের কথা পুত্র ইসমাইলকে জানালেন। জবাবে পুত্র ইসমাইল বললেন, “হে আমার প্রিয় পিতা, আপনি যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়েছেন তা সন্তুষ্টির জন্য আপনি তা পালন করুন। ইনশাল্লাহ্ আপনি আমাকে সবুরকারীদের মধ্যে পাবেন।” (সুরাহ সাফ্ফাত, আয়াত : ১০২)

হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আঃ) উভয়েই আল্লাহর হুকুম পালনে অবিচল সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন। মা হাজেরাও স্বেচ্ছায় আদরের সন্তানকে সাজিয়ে দিলেন। পিতামাতা পুত্রের আল্লাহর পথের কুরবানির এ দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই প্রথম। বালক ইসমাইলকে হযরত ইবরাহীম (আঃ) নিয়ে গেলেন মিনায় (বর্তমান হাজীদের কুরবানির স্থান)। যখন প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করতে উদ্যত হলেন সাথে সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রিয় নবীদ্বয়ের আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের কুরবানি কবুল করলেন। আনুগত্য ও কর্তব্য পরায়ণতার পুরস্কার স্বরূপ একটি মোটা তাজা পশু (দুম্বা) পাঠিয়ে পুত্রের পরিবর্তে জবাই করার হুকুম প্রদান করলেন।

বস্তুতঃ ইবরাহীম (আঃ) এর পুত্র কুরবানি দেয়ার এ অবিস্মরণীয় ঘটনাকে প্রাণবন্ত করে রাখার জন্যই উম্মতে মোহাম্মদীর উপর তা ওয়াজিব করা হয়। সেই থেকে সারা বিশ্বে ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ উদ্যাপিত হয়ে আসছে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে ঈদুল আযহা তথা কুরবানি এক ঐতিহ্যময় স্থান দখল করে আছে।

শেয়ার করুন, বন্ধুদের সাথে ইন শা আল্লাহ !

Post a Comment

0 Comments