তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত এবং রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি
তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত এবং রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না।

লেখাঃ মেহেরাব হোসেন জাবের (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

কুরবানী শব্দের অর্থ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের আশায় শরীয়ত নির্দেশিত পন্থায় কোন প্রিয় বস্তু (যা শরীয়তে নির্ধারিত) আল্লাহর দরবারে পেশ করা। কুরবানী নিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা পবিত্র কোরআনে বলেন,

"তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত এবং রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। কিন্তু তার কাছে তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে।" (১)

❒ কুরবানীর ইতিহাস

কেবল মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেই কুরবানী করা হয়। এ কুরবানী হযরত আদম (আঃ)-এর যুগ থেকে শুরু হয়। তবে সকল নবীর শরীয়তে করবানীর পন্থা এক ছিল না। সর্বশেষ আমাদের নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যে শরীয়ত অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে যে কুরবানীর বিধান রয়েছে তার সূচনা শুরু হয় হযরত ইব্রাহিম (আঃ) থেকে। এই জন্যে এই কুরবানীকে "সুন্নাতে ইব্রাহিম" বলা হয়ে থাকে।

হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-

"সাহাবারা জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই কুরবানী কী? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- তোমাদের পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)- এর সুন্নত।" (২)

❒ কুরবানীর ফযীলত

কুরবানীর বিশাল ফযীলত রয়েছে।হাদীস শরীফে এসেছে -

"সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কুরবানীতে আমাদের কী লাভ রয়েছে? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন কুরবানীর পশুর প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকী রয়েছে।(সুবহানাল্লাহ)
সাহাবায়ে কেরাম আবার জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! ভেরা দুম্বার (যা প্রচুর পশম বিশিষ্ট সেগুলোর প্রত্যেক) পশমের বিনিময়েও কি একটি করে নেকী হবে? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন - ভেড়া ও দুম্বার প্রত্যেক পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকী রয়েছে।" (৩)

আরেক হাদীসে এসেছে,

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুরবানীর দিনে আদম সন্তানের জন্য কুরবানী অপেক্ষা অধিক প্রিয় আমল আল্লাহর কাছে আর কিছু নাই। নিশ্চয় এ কুরবানী পশু কিয়ামতের দিন তার শিং, পশম এবং খুরসহ উপস্থিত হবে, কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে কুরবানী কর। (৪)

❒ কুরবানী কার ওপর ওয়াজিব

যদি কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন নর-নারীর কাছে নিত্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমান (তথা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ন বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা রুপার নেসাব সমমূল্যের) কোন সম্পদ থাকে। তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।

❒ কুরবানীর সময়

হযরত ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, কুরবানী করার সময় হল কুরবানীর দিন এবং তারপর আরো দুই দিন। (৫)

অর্থাৎ জিলহজ্জের ১০ তারিখ ঈদের নামানামাজের পর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো সময় কুরবানী করা যায়। তবে ১০ তারিখ করা উত্তম।

❒ কুরবানীর পশু ও বয়স

উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানী করা যায়েজ। গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা কুরবানী করা যায়েজ নয়। (৬)

বয়সের ক্ষেত্রে উট কমপক্ষে পাঁচ বছর। গরু ও মহিষ কমপক্ষে দুই বছর। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে এক বছর। (৭)

❒ শরীকানা কুরবানী

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন গরু, মহিষ, উট এগুলোতে সর্বোচ্চ সাত জনের পক্ষ থেকে কুরবানী করা যাবে। (৮)

অর্থাৎ সর্বোচ্চ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো ভাগে কুরবানী করা যায়েজ। কিন্তু ছাগল, ভেড়া, দুম্বাতে এক ভাগের বেশি যায়েজ নাই।

❒ কুরবানীর পদ্ধতি

জবাইকারী ব্যক্তির জন্য কিবলামুখী হয়ে জবাই করা সুন্নত। আর কুরবানীর পশুকেও যথাসাধ্য কিবলামুখী রাখা মুস্তাহাব। (৯)

❒ কুরবানী না করা

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে। (১০)

পরবর্তীতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল দেয়া হবে ইন শা আল্লাহ।

❒ তথ্যসূত্রঃ
________
(১) সূরা হজ্জঃ ৩৭
(২) মুসনাদে আহমদঃ ১৯২৮৩
(৩) মুসনাদে আহমদঃ ১৯২৮৩
(৪) সুনানে আহমদঃ ১৪৯৩
(৫) মিশকাতঃ ১৪৭৩
(৬) বাদায়েউস সানায়েঃ ৪/৫০৭
(৭) মুসলিম শরীফঃ ১৯৬৩
(৮) মুসলিম শরীফঃ ১৩১৮
(৯) বাদাউস সানায়েঃ ৪/১১৯
(১০) মুসতাদরাকে হকেমঃ ৩৪৬৮

Post a Comment

0 Comments