কুরবানি হোক শুধুমাত্র আল্লাহ্'র উদ্দেশ্য।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি
কুরবানি হোক শুধুমাত্র আল্লাহ্'র উদ্দেশ্য।

লেখাঃ শেইখ গুলশান আরা মোহিত (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

প্রত্যেক ক্ষেত্রে নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। আল্লাহ্'র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যেই নিয়ত করা হয়; সেই গুলোই পবিত্র ও বিশুদ্ধ নিয়ত। তাই আমাদের কাজের নিয়ত গুলো বিশুদ্ধ হতে হবে; যাতে সেই কাজ গুলো আল্লাহ্'র কাছে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য হয়।

কুরবানির পশু কত বড়, কত উচ্চতা, কয়টা কিনলেন এইটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। মূখ্য বিষয় হলো আপনার নিয়তটা লোকদের দেখানোর জন্য নাকি আল্লাহ্'র জন্য।

এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় কুরবানিকেও মানুষ প্রতিযোগিতা বানিয়ে ফেলেছে।

• তারা একটা গরু কিনেছে তাহলে দুইটা কিনতে হবে।
• তারা অনেক বেশি উচ্চতার গরু কিনেছে তাহলে এর থেকে ‌বেশি উচ্চতার গরু কিনতে হবে।
• তারা বড় গরু কিনেছে তাহলে এর থেকে বড় গরু কিনতে হবে।

আপনি কার জন্য কুরবানি দিচ্ছেন? আল্লাহ্'র জন্য? নিজের জন্য? নিজের লোকদের জন্য? নাকি লোক দেখানোর জন্য?
হয়তো আপনি বলবেন আল্লাহ্'র জন্য; তাহলে কুরবানির পশু কেনার প্রতিযোগিতা করে কি বোঝাতে চাচ্ছেন? মুখে না বললেও মনে মনে হয়তো ঠিকই বলবেন আমার স্ট্যাটাস বজায় রাখার জন্য।

কিন্তু মুখে ও অন্তরে এই নিয়ত থাকা উচিত যে আমার যা সামর্থ্য সেই অনুযায়ী কুরবানি দিবো; আমার কুরবানি হবে শুধু মাত্র আমার আল্লাহ্'র সন্তুষ্টির জন্য।

কুরবানির ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি ভয়াবহ গুনাহ হলো রিয়া (লোক দেখানো)। আর এই লোক দেখানোর উদ্দেশ্যের কারণে কুরবানি তখন আর ত্যাগ থাকে না। তখন এইটা হয়ে যায় শুধু মাত্র পশু জবাই। কারণ আল্লাহ্'র জন্য ত্যাগ মানেই মন থেকে তাকওয়ার সাথে কোন কিছু আল্লাহ্'র রাস্তায় বিলিয়ে দেওয়াকে বোঝায়।

আপনার কুরবানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে হলো আপনার রবকে খুশি করা। আল্লাহ্ আপনার অন্তরটা দেখবেন যে আপনার কুরবানি শুধুমাত্র আল্লাহ্'র জন্য নাকি লোক দেখানো।

আল্লাহ্ তা'আলার কাছে কুরবানির পশুর গোশত, রক্ত এই গুলো কিছুই পৌঁছাবে না; শুধু পৌঁছাবে আপনার তাকওয়া, ত্যাগ, নেক নিয়ত।

لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنْكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ ۗ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ

এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহ্'র কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহ্'র মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।" (সূরাহ হজ্জ, আয়াত : ৩৭)

কুরবানি দেওয়ার পর সেই গোশত গুলো শুধু তাদের বেশি বেশি দিলেন যারা কুরবানি দিয়েছে; যাতে তারা মনে করে আপনি কত উদার। কিন্তু যাদের কুরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই তারা চাইতে আসলে বা আশেপাশে থাকলে সেই ক্ষেত্রে আর আপনি উদার হতে পারেন না; কারণ আপনি হয়তো মনে করেন তাদের দিয়ে তো আপনার কোন লাভ হবে না, তাদের তো আপনার প্রয়োজনে আসবে না, তারা উদার ভাবলে তো আর আপনার সম্মান বাড়বে না।

আসলে কুরবানি মানেই হলো তাকওয়ার সাথে ত্যাগ করা। এই দান সবাইকে দেখানোর প্রয়োজন নেই। আল্লাহ্'র জন্য মন থেকে সওয়াবের আশায় বিলিয়ে দিন। কুরবানির গোশত নিজে খাবেন, আত্মীয়দের দিবেন, প্রতিবেশীদের দিবেন, যাদের সামর্থ্য নেই তাদের দিবেন। আর কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করবেন না বরং এইটাও আপনার কুরবানির অংশ তাই দান করে দিবেন; নয়তো বিক্রি করে অসহায়দের দিয়ে দিবেন।

وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُمْ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ ۖ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ ۖ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ ۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

"এবং কা’বার জন্যে উৎসর্গীকৃত উটকে আমি তোমাদের জন্যে আল্লাহ্'র অন্যতম নিদর্শন করেছি। এতে তোমাদের জন্যে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে বাঁধা অবস্থায় তাদের যবেহ করার সময় তোমরা আল্লাহ্'র নাম উচ্চারণ কর। অতঃপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে তোমরা আহার কর এবং আহার করাও যে কিছু যাচ্ঞা করে না তাকে এবং যে যাচ্ঞা করে তাকে। এমনিভাবে আমি এগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।" (সূরাহ হজ্জ, আয়াত : ৩৬)

কুরবানি হোক শুধুমাত্র আল্লাহ্'র উদ্দেশ্য।

আমার জীবনের সবকিছু যেন হয় শুধু মাত্র আমার আল্লাহ্'র জন্য।
হে আল্লাহ্ আমি যেন প্রত্যেক ক্ষেত্রে তোমার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।

قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

"আপনি বলুন: আমার সালাত, আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহ্'র জন্যে।" (সূরাহ আল আনআম, আয়াত : ১৬২)
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂

শেয়ার করুন, বন্ধুদের সাথে ইন শা আল্লাহ !

Post a Comment

0 Comments