মহররম মাস আসলেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আক্ষরিকভাবেই শিয়াদের ‘ডামাডোল’ শুরু হয়ে যায়

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি
মহররম মাস আসলেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আক্ষরিকভাবেই শিয়াদের ‘ডামাডোল’ শুরু হয়ে যায়

লেখাঃ মোঃ মুশফিকুর রহমান মিনার (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

মহররম মাস আসলেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আক্ষরিকভাবেই শিয়াদের ‘ডামাডোল’ শুরু হয়ে যায়। ঢোলের আওয়াজ আর “ইয়া হুসাইন” চিৎকারে বোঝা যায় যে দেশে বহু শিয়া আছে। কী এই শিয়াদের আকিদা? কিভাবে তাদের উৎপত্তি? তারা কি মুসলিমদের কেউ? এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন আছে। আজকে শিয়া ফির্কার জনকের ব্যাপারে কিছু লিখব।

শিয়াদের জনক হচ্ছে আব্দুল্লাহ ইবন সাবা। সে ছিল ইহুদি, মুখে ইসলাম গ্রহণের দাবি করেছিল। সে ইয়েমেনের জনপদ সান‘আর অধিবাসী, হিমইয়ার অথবা হামদান বংশে তার জন্ম। [তারিখ তাবারি ৪/৩৪০] উসমান(রা) এর খিলাফতকালে মুসলিমদের গোমরাহ করার লক্ষ্যে সে ইসলামি ভূখণ্ড চষে বেড়ায়। প্রথমে হিজাজ (মদিনায়), অতঃপর বসরা, এরপর কুফা এবং এরপর শামে গমন করে, কিন্তু কোথাও তেমন সুবিধা করতে পারেনি। অতঃপর সে মিসর এসে অবস্থান করে এবং সেখানেই তার আকিদা ‘ওসিয়াত’ ও ‘রাজ‘আত’ প্রচার করে। এখানে সে কতক অনুসারী লাভ করে।
[তারিখ তাবারি ৪/৩৪০, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া; ইবন কাসির ৭/১৬৭, কামিল লি ইবন আসির ৩/৭৭, তারিখু দিমাশক লি ইব্‌ন আসাকির ২৯/৭-৮) ও অন্যান্য প্রাচীন তারিখের কিতাবে (৩৫হি.) ঘটনাসমূহ দেখুন।]

আব্দুল্লাহ ইবন সাবা মদিনা থেকে তার বিষ ছড়ানো আরম্ভ করে। তখন মদিনায় সাহাবায়ে কিরাম আলেম উলামায় ভরপুর ছিল। যখন সে কোন সন্দেহ সৃষ্টিকারী কথাবার্তা ছড়াতো, তাঁরা তার প্রতিবাদ করতেন। যেমনঃ সে ইহুদি আকিদা রাজ‘আত তথা পুনরাগমন পেশ করে।
ইবন সাবা বলা শুরু করলঃ “আমি তাদের প্রতি আশ্চর্য বোধ করি, যারা বলে ঈসা ফিরে আসবে কিন্তু মুহাম্মদ ফিরে আসবে না। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “নিশ্চয় যিনি আপনার উপর কুরআনকে বিধানস্বরূপ দিয়েছেন, অবশ্যই তিনি তোমাকে প্রত্যাবতনস্থালে ফিরিয়ে নেবেন”। (সুরা কাসাস: ৮৫) অতএব ঈসার তুলনায় মুহাম্মদ ফিরে আসার বেশী হকদার। এক হাজার নবী ও এক হাজার উত্তরাধিকার ছিল, আলী হচ্ছে মুহাম্মদের উত্তরাধিকার। অতঃপর সে বলে : মুহাম্মদ সর্বশেষ নবী আর আলী সর্বশেষ উত্তরাধিকার”। [তারিখ তাবারি ৪/৩৪০]

ইমাম ইবন কাসির(র) এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কিছু আলেমের বাণী উল্লেখ করেন, যেমন: “আল্লাহ আপনাকে কিয়ামতে উপস্থিত করবেন, অতঃপর তিনি তোমাকে দেয়া নবুওয়তের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন”। কেউ বলেছেন : “আল্লাহ আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবেন”। অথবা তোমাকে মৃত্যু দেবেন। অথবা তোমাকে মক্কায় নিয়ে যাবেন। মক্কায় নিয়ে যাওয়ার বাণী ইমাম বুখারী ইবন আব্বাস(রা) থেকে বর্ণনা করেন”। [বুখারী-ফাতহ ৮/৩৬৯, তাবারি ফিত তাফসির ১০/৮০-৮১] কিন্তু ইবন সাবা এ আয়াতের অর্থ বিকৃত করে তার রাজ‘আত তথা পুনরাগমনবাদের মত ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করে।

“আব্দুল্লাহ ইব্‌ন সাবা যখন জানতে পারে যে মিসরে উসমান বিরোধীদের সংখ্যা অধিক, সে ওখানে চলে যায়। ইলম ও তাকওয়ার বেশ ধারণ করে। অবশেষে মানুষ তার দ্বারা প্রতারিত হয়। তাদের মাঝে সে গভীর আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টি করে নিজের মাযহাব ও মতবাদ প্রচার আরম্ভ করে। যেমনঃ প্রত্যেক নবীর উত্তরাধিকার ও খলিফা রয়েছে, আর রাসূলুল্লাহ(স)র উত্তরাধিকার ও খলিফা হচ্ছে্ন একমাত্র আলী। তিনি ইলম ও ফতোয়ার মালিক, তাঁর রয়েছে সম্মান ও বীরত্ব। তিনি আমানত ও তাকওয়ার অধিকারী।
সে আরো বলে : উম্মত আলীর উপর যুলম করেছে, তারা তাঁর খিলাফত ও ইমামতের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন আমাদের সবার উচিত তাঁকে সাহায্য করা ও উসমানের বাইআত ত্যাগ করা!
তার কথার দ্বারা অনেকে প্রতারিত হয়ে খলিফা উসমানের(রা) বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘোষণা করে”। [“রাওজাতুস সাফা”: (পৃ.২৯২), শিয়া ও সুন্নাহ কিতাব: (পৃ.১৫-২০), ইহসান ইলাহি জহির]

ঐতিহাসিকগণ বলেনঃ ইয়েমেনের যেখানে আব্দুল্লাহ ইবন সাবা বেড়ে উঠেছে, সেখানে তাওরাত ও ইঞ্জিলের [বাইবেলে এই কিতাবদ্বয়ের বিকৃত যে অংশ বিদ্যমান] শিক্ষা, আদর্শ ও মতবাদ বিদ্যমান ছিল। তবে তাওরাতের শিক্ষা অনেকটাই ইঞ্জিলের সাথে মিশে গিয়েছিল। সে উভয় গ্রন্থ থেকে তার আকিদা গ্রহণ করে। [“তারিখুল আরব কাবলাল ইসলাম” লি জাওয়াদ আলি ৬/৩৪]

শিয়াদের তৃতীয় শতাব্দির বিখ্যাত পণ্ডিত আল-হাসান ইবন মূসা আবু মুহাম্মদ আন-নাওবাখতি বলেন: “আব্দুল্লাহ ইব্‌ন সাবা আবু বকর, উমার, উসমান ও সাহাবাদের বিষোদগার করে, তাঁদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং বলে, আলী তাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন! আলী(রা) তাকে গ্রেফতার করে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, সে তা স্বীকার করে। আলী তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তখন আশ-পাশের লোকজন চিৎকার করে উঠল, "হে আমিরুল মুমিনীন! এমন ব্যক্তিকে হত্যা করবেন, যে মানুষদেরকে আহলে বাইত ও আপনাদের মহব্বত এবং আপনাদের নেতৃত্বের দিকে আহ্বান করে ও আপনাদের শত্রুদের থেকে বিচ্ছেদ ঘোষণা করে!" আলী(রা) তখন তাকে মাদায়েন (তৎকালীন পারস্যের রাজধানী) পাঠিয়ে দেন”। [“ফিরাকুশ শিয়া” লি নওবখতি, পৃ.৪৩-৪৪]

আবু হাফস ইব্‌ন শাহিন (মৃত৩৮৫হি.) উল্লেখ করেন: “আলী(রা) শিয়াদের একটি জামাত জ্বালিয়ে দিয়েছেন, অপর একটি দলকে তিনি নির্বাসনে পাঠান। যাদেরকে তিনি নির্বাসনে পাঠান, তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবন সাবাও ছিল”। [“মিনহাজুস সুন্নাহ”, ইব্‌ন তাইমিয়াহ ১/৭]

আব্দুল্লাহ ইবন সাবা প্রাণে বেঁচে যায় এবং ধীরে ধীরে মুসলিমদের মধ্যে একটি ভ্রান্ত জামাত তৈরিতে সক্ষম হয়, যারা ছিল ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী। তারা এমন কিছু আকিদা প্রচার করে, যার সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। সে নিজেকে আলী (রা)-এর পক্ষের ঘোষণা করলেও আলী(রা)র সাথে তার কোন সম্পর্ক ছিল না। আলী(রা) তাদের সাথে সম্পর্ক ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিয়েছেন। তাঁর সন্তানেরাও তাদেরকে অপছন্দ করত। তাদের উপর লানত করেছে, তাদেরকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেসব বাস্তবতা চাপা পড়ে যায়, মুসলিমরা ভুলতে আরম্ভ করে তাদের ইতিহাস।

সহায়ক গ্রন্থঃ "أسئلة قادت شباب الشيعة إلى الحق " [কতিপয় প্রশ্ন শী‘আ যুবকদের যা সত্যের দিকে ধাবিত করেছে] -- সুলাইমান ইব্‌ন সালেহ আল-খারাশি
আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

Post a Comment

0 Comments