দুনিয়ার আগুন জাহান্নামের আগুনের তাপের তুলনায় সত্তর ভাগের এক ভাগ


আগুনের বৈশিষ্ট্য হল দাহ্য করা দুনিয়ার আগুন জাহান্নামের আগুনের তাপের তুলনায় সত্তর ভাগের এক ভাগ। দুনিয়ার আগুন যদি আমাদের শরীরের কোথাও লেগে যায়,শুধু সে স্থানেই পুড়ে যাবে। আবার আগুনের তীব্রতা অধিক হয়ে গেলে মানুষ মৃত্যু বরন করবে। মানুষের হৃদয় অক্ষত অবস্থায় থেকে যাবে।

আমাদের শরীরের চামড়ার মধ্যে ব্যাথ্যা সংবেদনশীল এক বিশেষ উপাদান রয়েছে। যাকে পেইন রিসেপ্টর (pain receptor) বলা হয়। কোন কারনে যদি ত্বকের pain receptor ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে ত্বকের সে স্থানে আর ব্যাথা অনুভব হবে না। ধরুন,আপনার শরীর কোন এক স্থান পুড়ে গেছে আপনি ডাক্তারের কাছে গেলেন। পুড়ে যাওয়া স্থানে ডাক্তার সাহেব শুই দিয়ে খোঁচা দিচ্ছে কিন্তু আপনি কোন ব্যাথা অনুভব করছেন না। এর কারন হল পুড়ে যাওয়ার ফলে আপনার pain receptor ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আপনার পুড়ে স্থানে যতই আঘাত করা হোক আর ব্যাথা অনুভুত হবে না।

কেউ যদি বেত দিয়ে ত্বকের একি স্থানে বারবার আঘাত করে প্রথম আঘাত গুলো তাকে প্রচন্ড কষ্ট দিবে,কিন্তু বারবার আঘাতের কারনে পরবর্তীতে আর কোন ব্যাথা অনুভুত হবে না। সেই স্থানে হাজার আঘাত করলেও আর তাকে কষ্ট দেওয়া যাবে না।

মহান আল্লাহ তাআলা সে কথাই বলেছেন, "নিশ্চয়ই যারা আমাদের আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে অবশ্যই তাদেরকে আমরা আগুনে পোড়াব; যখনই তাদের চামড়া পুড়ে পাকা দগ্ধ হবে তখনই তার স্থলে নতুন চামড়া বদলে দেব, যাতে তারা শাস্তি ভোগ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" (সূরাহ আন-নিসা, আয়াত : ৫৬)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা কেন চামড়া চেইঞ্জ করে দিতে চেয়েছেন এতক্ষনে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন।

এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে মু’আয রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন যে, "তাদের শরীরের চামড়াগুলো যখন জ্বলে-পুড়ে যাবে, তখন সেগুলো পাল্টে দেয়া হবে এবং এ কাজটি এত দ্রুতগতিতে সম্পাদিত হবে যে, এক মুহুর্তে শতবার চামড়া পাল্টানো যাবে। হাসান বসরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘আগুন তাদের চামড়াকে একদিনে সত্তর হাজার বার খাবে। যখন তাদের চামড়া খেয়ে ফেলবে, অমনি সেসব লোককে বলা হবে, তোমরা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাও। সাথে সাথে সেগুলো পূর্বের মত হয়ে যাবে।" (ইবন কাসীর, ১/৫১৪)

জাহান্নামের আগুন শুধু কি চামড়ায় পুড়ে যাবে? এবার আসি অন্য আয়াতে, "আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।" (সুরাহ হুমাযাহ, আয়াত : ৭-৮)

الَّتِى تَطَّلِعُ عَلَى الْأَفْـِٔدَةِ

— প্রথমত, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন ‘তাত্তালিউ’ এই শব্দটির মূলে হচ্ছে ইত্তিলা। আর ‘ইত্তিলা’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে চড়া, আরোহণ করা ও ওপরে পৌছে যাওয়া। [জালালাইন]

— ‘আফইদাহ’ শব্দটি হচ্ছে বহুবচন। এর একবচন হচ্ছে ‘ফুওয়াদ’। এর মানে হৃদয়।

অর্থাৎ জাহান্নামের এই আগুন হৃদয়কে পর্যন্ত গ্ৰাস করবে। হৃদয় পর্যন্ত এই আগুন পৌঁছাবার একটি অর্থ হচ্ছে এই যে, এই আগুন এমন জায়গায় পৌছে যাবে যেখানে মানুষের অসৎচিন্তা, ভুল আকীদা-বিশ্বাস, অপবিত্র ইচ্ছা, বাসনা, প্রবৃত্তি, আবেগ এবং দুষ্ট সংকল্প ও নিয়তের কেন্দ্র। [ফাতহুল কাদীর]

এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর এই আগুন দুনিয়ার আগুনের মতো অন্ধ হবে না। সে দোষী ও নির্দোষ সবাইকে জ্বলিয়ে দেবে না। বরং প্রত্যেক অপরাধীর হৃদয় অভ্যন্তরে পৌছে সে তার অপরাধের প্রকৃতি নির্ধারণ করবে এবং প্রত্যেককে তার দোষ ও অপরাধ অনুযায়ী আযাব দেবে।

এর তৃতীয় অর্থ হচ্ছে, দুনিয়ার আগুন মানুষের দেহে লাগলে হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছার আগেই মৃত্যু হয়ে যায়। জাহান্নামে মৃত্যু নেই। কাজেই জীবিত অবস্থাতেই হৃদয় পর্যন্ত অগ্নি পৌছবে এবং হৃদয়-দহনের তীব্ৰ কষ্ট জীবদ্দশাতেই মানুষ অনুভব করবে। [কুরতুবী]

হে আল্লাহ আমাদেরকে তোমার ক্রোধ এবং জাহান্নামের আযাব থেকে হেফাজত করুন। (আমীন)
সমাপ্ত

লেখাঃ ডা. সাঈদ (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ