পাপগুলো কিন্তু পাপের নামে হয় না

পাপগুলো কিন্তু পাপের নামে হয় না

পাপগুলো কিন্তু পাপের নামে হয় না। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পাপগুলো হয় সব বাহারি মোড়কের আড়ালে, বেনামে।

— সিনামায় উলঙ্গপনা? ওটা শিল্প।
— নাটক-সিরিয়ালে ব্যাভিচার? ওটা বিনোদন।
— স্কুল-কলেজে মেয়ে নাচানো? ওগুলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
— শহরের রাস্তায় রাস্তায় মূর্তি? ওগুলো ভাস্কর্য।
— ব্যাট-বলে জুয়ার আড্ডা, ছেলেমেয়েদের আওরাহ খোলা? ওগুলো স্পোর্টস।
— ফুল, গান ও বাদ্য সহ ইট-লোহা-সিমেন্টের প্রতিকৃতি পূজা? ওটা শ্রদ্ধা নিবেদন।
— অশ্লীল চিত্রাংকন আর মূর্তি গড়া? ওটা শিল্পকলা।
— অশ্লীলতায় বোঝাই ব্যাভিচারের কিচ্ছা-কাহিনী? ওগুলো সাহিত্য।
— মন্তু-টুনি আর কুবের-কপিলার পরকীয়া? ওগুলো পাঠ্যপুস্তক।
— লক্ষ্মীপেঁচার মূর্তি বানিয়ে মঙ্গল পূজা? ওটা বর্ষবরণ।
— মন্ডপ বেড়ানো, প্রসাদ খাওয়া আর হোলি খেলা? ধর্ম যার যার উৎসব সবার।

উপরের স্পেসিফিক নামকরণগুলোর ক্রেডিট বাঁআঁলি কালচাঁড়াল ও চাকর-বাকরদের হলেও, এই পাপের গায়ে সুন্দর মলাট দেয়ার কনসেপ্টটা বাঁআঁলির না। কনসেপ্টটা হচ্ছে শয়তানের।

এই কনসেপ্ট খাটিয়েই শয়তান প্রথম মানব-মানবী ও আমাদের আদি বাবা-মা ‘আদম ও ‘হাওআ ‘আলাইহুমুসসালামকে কুমন্ত্রণা দিয়েছিল।

আল্লাহ ‘আজ্জা ওয়া জাল বলেন, “অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল, বললঃ “হে আদম, আমি কি তোমাকে দেখাবো শাজারাতিল খুলদ (আরবীঃ شجرة الخلد, অর্থঃ অনন্ত জীবনপ্রদ গাছ, Tree of Eternity) আর এমন রাজত্ব যা অক্ষয়?”” (সূরাহ ত্ব-হা, আয়াত : ১২০)

আল্লাহ তা’আলা নিষেধ করে দিয়েছেন ঐ গাছের ফল খেতে। কিন্তু শয়তান সেটা খাইয়েই ছাড়বে। কীভাবে খাওয়াবে? সে কি বলবে, “আল্লাহ যেহেতু নিষেধ করেছেন, তাই খেয়ে অবাধ্য হও”?

না, সে এভাবে বলবে না। কারণ সে জানে সরাসরি একথা বললে ঈমানদার না-ও শুনতে পারে। তাই সে নিষিদ্ধ গাছটার একটা সুন্দর নাম দিয়ে দিলঃ শাজারাতিল খুলদ, Tree of Eternity, অনন্ত জীবনপ্রদ গাছ।

অথচ আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “কুরআনে উল্লেখিত শাজারাতাল মাল’ঊনাহ (আরবীঃ الشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ, অর্থঃ অভিশপ্ত গাছ, লা’নতপ্রাপ্ত গাছ) শুধু মানুষের জন্য ফিতনাস্বরূপ নির্ধারণ করেছি।” (সূরাহ বনী-ইসরাঈল, আয়াত : ৬০)

দেখেন শয়তানের শয়তানি। আল্লাহ তা’আলা বলে দিলেন যে গাছটি ‘অভিশপ্ত’, কিন্তু সে মানুষকে শেখাচ্ছে যে এটা গাছটি ‘অনন্ত জীবনপ্রদ’। ঠিক যেমন এই দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পাপগুলো! ঘটনা এক, কিন্তু শয়তানের দল নাম দেয় আরেক!

নামধারী পাপ আর বেনামী/মলাটওয়ালা পাপের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

পার্থক্য হচ্ছে, নামধারী পাপটা যে করে সে জানে সে পাপ করছে৷ কিন্তু বেনামী পাপ যারা করে, তারা মনে করে না তারা পাপ করছে। বরং তারা মনে করে ভালো কাজই তো হচ্ছে।

“আর আমি আ’দ ও সামূদকে ধ্বংস করেছিলাম; ওদের বাড়ি-ঘরই তোমাদের জন্য এর সুস্পষ্ট প্রমাণ।[1] শয়তান ওদের কাজকে ওদের দৃষ্টিতে সুশোভিত করেছিল এবং ওদেরকে সৎপথ অবম্বনে বাধা দিয়েছিল; যদিও ওরা ছিল বিচক্ষণ। [2]

[1] আ’দ জাতির বসতি আহ্কাফ ইয়ামানের ‘হাযরামাওত’-এর নিকটে অবস্থিত ছিল। আর সামূদের বসতি ‘হিজর’ আজকাল যাকে ‘মাদায়েনে সালেহ’ বলা হয় এবং যা হিজাজের (মদীনার) উত্তরে অবস্থিত। উক্ত এলাকার উপর দিয়ে আরবের বাণিজ্য কাফেলা যাতায়াত করত। সেই জন্য ঐ সকল বসতি তাদের অজানা ছিল না। বরং তাদের নিকট পরিচিত ছিল।

[2] অর্থাৎ, তারা জ্ঞানী ও চালাক-চতুর তো ছিল; কিন্ত দ্বীন ও ধর্মের ব্যাপারে তারা নিজেদের জ্ঞান কাজে লাগায়নি। সেই জন্য তাদের জ্ঞান-গরিমা তাদের কোন কাজে আসেনি।” (সূরাহ আল-আনকাবুত, আয়াত : ৩৮)

লক্ষ্য করেই দেখুন, উপরের ঐ বেনামী পাপগুলো কিন্তু বহু নামাজী-রোজাদার লোকই করে। শুধু করেই না, সমাজের অনেকের চোখেই তারা হচ্ছে গুড মুসলিম। ইসলামেও আছে, আবার কালচাঁড়ালিতেও আছে। আর যারা ওগুলোতে বাধা দিবে তারা এক্সট্রীমিস্ট, জঙ্গি, ফ্যানাটিক!

বান্দার পাপ হবেই। আল্লাহ তা’আলাই বলেছেন, “আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা করে ফেলে, জেনে-বুঝে তারা তা পুনরায় করতে থাকে না।” (সূরাহ আলে-ইমরান, আয়াত : ১৩৫)

কিন্তু বেনামী পাপগুলোকে তো কেউ পাপই মনে করছে না। ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা!

নব্বই পারসেন্ট মুসলমান হওয়ার বাতাস ভরা আত্মতুষ্টিতে বিভোর হয়ে বসে আছে একটা বোকা জাতি! নব্বই পারসেন্ট মুসলমান, অথচ তার জাতীয় জীবনে শিরক-কুফরের ছড়াছড়ি আর সামাজিক জীবনে জিনা-ব্যাভিচারের ছড়াছড়ি!

আল্লাহ তা’আলা আমরা যারা অন্তত নিজেদেরকে মুসলিম ভাবি তাদেরকে হিদায়াত দিন, ক্ষমা করুন, মাফ করুন।
সমাপ্ত

লেখাঃ তাওসীফ (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ