কে আছো এমন, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে?

কে আছো এমন, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে?

চলুন আজকে আপনাদেরকে আমি একটা নতুন জগতে নিয়ে যাই!

কিভাবে আল্লাহ তাআলার পবিত্র কুরআন পড়তে হয়, তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ দেখি! কিভাবে কুরআনের একটি আয়াত আবু দাহদা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু উজ্জীবিত করেছিল.

আল্লাহ তা'আলা তাঁর পবিত্র কুরআনের সূরাহ বাকারাহ-তে বলেছেন,

مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

'কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন? আর আল্লাহ সংকীর্ণ করেন ও প্রসারিত করেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরানো হবে।' [সূরাহ আল-বাকারাহ, আয়াত : ২৪৫]

قَرْضٌ حَسَنٌ (উত্তম ঋণ) প্রদান করার অর্থ আল্লাহর পথে এবং জিহাদে মাল ব্যয় করা। অর্থাৎ, জানের মত মালের কুরবানী দিতেও দ্বিধা করো না। রুযীর প্রসারণ ও সংকোচনের এখতিয়ার কেবল আল্লাহরই হাতে। তিনি উভয়েরই মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকেন; কখনো রুযী হ্রাস করে এবং কখনো তার প্রসার ঘটিয়ে। অতএব আল্লাহর পথে ব্যয় করলে কমে না, বরং মহান আল্লাহ এতে অনেক অনেক বৃদ্ধি দান করেন। কখনো বাহ্যিকভাবে, আবার কখনো অভ্যন্তরীণভাবে মালে বরকত দিয়ে। আর আখেরাতে যে বৃদ্ধি হবে তা অবশ্য অবশ্যই বিস্ময়কর হবে।
(তাফসীরে আহসানুল বায়ান)

আল্লাহকে ঋণ! বান্দা দিবে আল্লাহকে ঋণ! যেখানে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ আল্লাহ তালার মুখাপেক্ষী আর আল্লাহ হলেন স্বয়ং সম্পন্ন আস সামাদ। আয়াতের গভীরতা চিন্তা করা যায়? চমকে উঠার মত আয়াতটা! হে আমাদের মত আবু দাহদা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুও এই আয়াত শুনে বিস্ময়ের সাথে নবীজি ﷺ কে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ আমাদের কাছে ধার চাচ্ছেন? ঋণ চাচ্ছেন?

নবীজি ﷺ বললেন, হ্যাঁ! আবু দাহদা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার হাতটি দিন আমি কথা দিচ্ছি, আমার খেজুর বাগান টি ধার দিবো।

আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নবী ﷺ কে ৬০০টি খেজুর গাছ সমৃদ্ধ সবচেয়ে ভাল খেজুর বাগানটি দিয়ে দিলেন! আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর অনেকগুলো বাগান ছিল। তিনি ধনী ছিলেন। তিনি উত্তম বাগানটিতে গেলেন।

কোন বাগানটিতে জানেন? যেখানে তিনি তার পরিবার নিয়ে থাকতেন?
তিনি তার স্ত্রীর কাছে গেলেন। বললেন সবকিছু গুছিয়ে নাও, আমরা এ বাগান থেকে চলে যাচ্ছি। এই বাগান এখন আর আমাদের নয় কারণ এই বাগানটি আমি উত্তম ঋণ হিসেবে আল্লাহকে দিয়েছি!

আচ্ছা আজকে যদি আমরা বাসায় গিয়ে আমাদের স্ত্রীকে বলি চলো এই বাড়ি থেকে, আমি আল্লাহ তায়ালাকে উত্তম ঋণ হিসেবে ধার দিয়েছি। তাহলে আমাদের স্ত্রীর প্রতিক্রিয়াটা কেমন হবে? আমাদের সন্তানের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? আমাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতিক্রিয়া টা কেমন হবে?

কিন্তু একথা শুনে আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

তাঁর স্ত্রী কি কোন অভিযোগ করেছিলেন?
বলেছিলেন, কেন, কি হচ্ছে এসব! না?

তিনি কোন অভিযোগই করেননি, কোন পাল্টা প্রশ্নও না! তিনি চুপচাপ উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর বাচ্চাদের হাত ধরলেন। তিনি বুঝলেন যে,এই বাগানটি উত্তম ঋণ হিসেবে আল্লাহকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে তাই এর মধ্যে যা আছে সেগুলো আর তাদের নয়। কাজেই তিনি বাচ্চাদের হাতে যে খেজুরগুলো ছিল সেগুলো নিয়ে নিলেন, এমনকি বাচ্চাদের মুখে যা ছিল তাও বের করে রেখে দিলেন। [আল্লাহু আকবার] একেবারে শূন্য হাতে বাচ্চাদের নিয়ে তিনি বাগান থেকে বের হয়ে গেলেন।

আল্লাহ তায়ালাকে পেতে চাওয়ার তীব্র আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত মানে হচ্ছে এটাই,আল্লাহর কথাকে বুঝতে পারা,কুরআনকে বুঝতে পারা,প্রতিটি আয়াতকে বুঝতে পারা,আয়াতের সারাংশ, সারমর্ম, মূল ভার্ব বুঝতে পারা। কুরআনে যে আদেশ নিষেধ আছে, তা মেনে নেওয়া এবং বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের ইতস্তত ভাব বা বাধা সৃষ্টি না হওয়া।

যখন নবী ﷺ আবু দাহদা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর প্রতিশ্রুতির কথা শুনলেন, তিনি বলেন, আবু দাহদা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর জন্য জান্নাতে এমন অনেক গুলো বাগান আছে। [সহিহ মুসলিম, ২২৮৩]
সমাপ্ত

লেখাঃ ডা. সাঈদ (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ