রােযা অবস্থায় এবং ইফতারের আগে ও পরে দুআ করা ( পদ্ধতি ও করণীয় )


রোযার সারাদিনই দুয়া বেশি কবুল কর হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন ব্যক্তির দুআ’ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।

১. রোজাদার ব্যক্তি ইফতার করা পর্যন্ত
২. ন্যায়পরায়ণ ইমাম বা রাষ্ট্রপতি
৩. মজলুম ব্যক্তির দো‘আ।

এই তিনি ব্যক্তিদের দুআ’ আল্লাহ আকাশে মেঘমালার উপরে তুলে নেন এবং এর জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং আমাদের মহান রব বলেন, “আমার ইজ্জত ও মাহাত্ম্যের কসম করে বলছি! অবশ্যই আমি তোমাকে সাহায্য করবো, কিছু সময় পর হলেও।” (মুসনাদে আহমাদঃ ২/৩০৫; তিরমিযীঃ ৩৫৯৮; হাসান সহীহ, শায়খ আলবানী)

রোযার সারা দিনের মাঝে ইফতারির আগে ও পরে আরও দুয়া করা আরও বেশি ফযীলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“রোজাদার ব্যক্তির ইফতারির সময় দুয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয়না।” [ইবনে মাজাহ, হাদীসটি সহীহ]

ইফতারির সময়টা পেতে হলে কখন দুয়া করতে হবে?

“ইফতারি করার আগে বা পরে- এই দুই সময়েই দুয়া করা যায়। কারণ হাদিসে বলা হয়েছে, ইফতার এর সময় দুয়া- যা ইফতার করার আগে ও পরে উভয় সময়কেই বুঝায়।” [ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দাইয়িমা] (সংগৃহীত)

কিভাবে কী দুয়া করব?

আপনি একান্ত আবেগ জড়িত কণ্ঠে, অশ্রু বিগলিত চোখে, পূর্ণ ইখলাস বা আন্তরিকতা নিয়ে, দুআ কবুলের প্রত্যাশা সহকারে দুআ করবেন। কিবলা মুখী হয়ে বসে দু হাত উত্তোলন করে দুআ করা উত্তম। তবে কাজে ফাঁকে ফাঁকে, চলতে-ফিরতে হাত তোলা ছাড়াও দুআ করা জায়েজ আছে।

প্রথমে কুরআন ও হাদিসের ব্যাপকার্থ বোধক দুআগুলো করার চেষ্টা করতে হবে। তারপর নিজ ভাষায় যে কোন বৈধ কাজের জন্য দুআ করতে হবে। এভাবে দুআ করলে আশা করা যায় আল্লাহ আমাদের দুআ কবুল করবেন। নিশ্চয় তিনি দুআ কবুল কারী, পরম করুণাময় ও ক্ষমাশীল।

লেখাঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

Post a comment

0 Comments