আর ‘রাহমান’-এর বান্দা তারাই, যারা যমীনে অত্যন্ত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে


প্রজ্ঞাপূর্ণ নিরবতা..

আসসলামু আলাইকুম। একটি অসাধারণ ঘটনা শোনা যাক। আর তা ঘটেছিল শ্রেষ্ঠমানব রাসুল ﷺ এর সামনেই। একবার রাসুল ﷺ সাহাবাদের সাথে বসেছিলেন। মজলিসে উপস্থিত ছিলেন শ্রেষ্ঠতম সাহাবী আবু বকর সিদ্দীক (রা.)।

এমন সময় এক ব্যক্তি এসে আবু বকর (রা.)-কে খুব কদর্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলো। এমন একজন মহান চরিত্রের মানুষকে এমন কটু ভাষায় আক্রমণ করতে দেখে সবাই বিস্মিত হলেন। কিন্তু আবু বকর (রা.) কোনো প্রতিবাদ না করে নীরবে গালি শুনতে লাগলেন আর রাসুল ﷺ তা দেখে মুচকি হাসতে লাগলেন। (লক্ষ্য করুন রাসুল ﷺ মিটিমিটি হাসছিলেন!)

কিছুক্ষণ সহ্য করার পর আবু বকরের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেল। তিনি ঐ ব্যক্তিকে তারই দেয়া একটি গালি ফেরত দিলেন।

আর, তৎক্ষণাৎ রাসুল ﷺ এর মুখ বিমর্ষ হয়ে গেলো, তাঁর চোখে-মুখে অসন্তোষের চিহ্ন সুস্পষ্ট ফুটে উঠল। তিনি উঠে সোজা বাড়ীতে চলে গেলেন।

প্রিয় মানুষটির এমন আচরণে আবু বকর (রা.) খুব ঘাবড়ে গেলেন। তিনি কালবিলম্ব না করে রাসুল ﷺ এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহ্‌র রাসূল, লোকটি যখন আমাকে গালি দিচ্ছিল, তখন আপনি চুপচাপ শুনছিলেন। আর যখনই আমি একটু জবাব দিলাম, অমনি অসন্তুষ্ট হয়ে উঠে চলে এলেন?”

রাসুল ﷺ বললেন, “শোন আবু বকর, যতক্ষণ তুমি নিরব ছিলে এবং ধৈর্য ধারণ করছিলে, ততক্ষণ তোমার সাথে আল্লাহর একজন ফিরিশতা নিযুক্ত ছিলেন, যিনি তোমার পক্ষ হতে ঐ ব্যক্তির মন্দ কথার জবাব দিচ্ছিলেন। কিন্তু যখন তুমি নিজেই জবাব দিতে শুরু করলে তখন ঐ ফেরেশতা চলে গেলেন এবং মাঝখানে এক শয়তান এসে গেল। সে তোমাদের উভয়ের মধ্যে গোলযোগ তীব্রতর করতে চাইছিল।"

''হে আবু বকর! মনে রেখ কোনো বান্দার উপর যদি যুলুম ও বাড়াবাড়ি হতে থাকে এবং সে যদি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা ক্ষমা করতে থাকে এবং কোনো প্রতিশোধ নেয়া হতে বিরত থাকে, তবে আল্লাহ যুলুমকারীর বিরুদ্ধে তাকে সর্বাত্মক সাহায্য করেন।”

আবু বকর (রা.) এই ভেবে অনুতপ্ত হলেন যে, ধৈর্যহারা হয়ে তিনি সরাসরি আল্লাহর পাঠানো ফিরিশতার মাধ্যমে প্রদত্ত সাহায্য হতে বঞ্চিত হয়ে গেলেন।

তথ্যসুত্রঃ গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), হাদিস নং - ৪৮১৬ অধ্যায়ঃ ৩৬-আদব, পরিচ্ছদ ৪৭- প্রতিশোধ গ্রহন।

আরেকটি হাদীস উল্লেখ না করে পারছিনা যেখানে নিরব থাকার বারাকাহর ব্যাপারে রাসুল ﷺ উল্লেখ করেছেন,

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "যে ব্যক্তি নিরব থাকল, সে নাজাত (মুক্তি) পেল।" (সূনানে তিরমিজী, ২৫০১)

এবার, সূরাহ আল ফুরকান-এর ৬৩ আয়াতে আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ কি বলছেন একবার দেখুন,

"আর ‘রাহমান’-এর বান্দা তারাই, যারা যমীনে অত্যন্ত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন জাহেল (মূর্খ) ব্যক্তিরা তাদেরকে (অশালীন ভাষায়) সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, ‘সালাম’।" (সূরাহ আল ফুরকান, ৬৩)

আল্লাহ আর রাসুল ﷺ এর দেয়া এই মহৌষধ নিজের জীবনে প্রয়োগ করে দেখব নাকি, প্রজ্ঞাপূর্ণ নিরবতার এই অনুশীলন যদিও কঠিন, তবুও... অন্তত একবার?

লেখাঃ মোস্তফা রাসেল আল রশিদ (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

সমাপ্ত

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ