খুবই ছোট একটি বাক্য “আস্তাগফিরুল্লাহ” (استغفر الله)। এর অর্থ

খুবই ছোট একটি বাক্য “আস্তাগফিরুল্লাহ” (استغفر الله)। এর অর্থ “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই”। বাক্যটি ছোট হলেও আমাদের জীবনে এটি গুরুত্ববহ একটি বাক্য।

মুসলমানদের জীবনে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সবকিছুর বিনিময়ে আল্লাহর সন্তুষ্ঠি অর্জন করা। আল্লাহর এই সন্তুষ্টি অর্জনে আমাদের গুনাহ আমাদেরকে বাধা দেয়। এরজন্য আমাদের প্রয়োজন হয় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার বা ইস্তিগফারের।

ইস্তিগফার পাঠের মাধ্যমে আমরা আমাদের গুনাহকে মোচন করতে পারি এবং নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তোষ অর্জনের মাধ্যমে জান্নাতের জন্য উপযুক্ত করে নিতে পারি। আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিয়েছেন আমাদের গুনাহকে মোচন করে নেওয়ার। ইস্তেগফারের কল্যাণ সম্পর্কে কুরআনের আটটি আয়াত এখানে উপস্থাপন করা হল।

. "তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।" (সূরা নূহ, আয়াত: ১০)

দিনে-রাতে আমরা নিজেরা বিভিন্ন গুনাহের সাথে লিপ্ত হই। পাহাড় সমান গুনাহে আমরা নিজেদেরকে ডুবিয়ে রাখি। আল্লাহ আমাদের এই পাহাড়সম গুনাহকেও মাফ করবেন, যদি আমরা আন্তরিকভাবেই ইস্তেগফার করতে পারি।

রাসূল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ দিনে হাত বাড়িয়ে দেন যাতে রাতের পাপীরা ক্ষমা চাইতে পারে এবং তিনি রাতে হাত বাড়িয়ে দেন যাতে দিনের পাপীরা ক্ষমা চাইতে পারে।” (মুসলিম)

আল্লাহর রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, “বামকাঁধের ফেরশতা গুনাহ করা একজন মুসলিম বান্দাকে ছয় ঘন্টা সময় দেয়। সেই বান্দা যদি তওবা করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তবে ফেরেশতা তা লিপিবদ্ধ করেনা। এবং যদি সেই বান্দা আল্লাহর কাছে ক্ষমা না চায়, তবে ফেরেশতা তা একবার লিপিবদ্ধ করে।” (মুসলিম)

সুতরাং, গুনাহ করে ফেললে দ্রুত আল্লাহর ক্ষমার দিকে ছুটুন।

. "তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন।" (সূরা নূহ, আয়াত: ১১)

কুরআন ও হাদীসে বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ যখন কোন দোয়া কবুল করেন, তখন তিনি নিদর্শণ হিসেবে বৃষ্টি ঝরান।

ক্ষমাও আল্লাহর বৃষ্টি বর্ষণ করানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারন। বৃষ্টির মাধ্যমে যেমন মৃত ভূমি জীবন্ত হয়ে উঠে, ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহর ক্ষমার মাধ্যমে আমাদের দূষিত অন্তর পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠে।

ইস্তেগফারের মাধ্যমে আমরা আমাদের হৃদয়কে আল্লাহর বিধান গ্রহণের জন্য আরো উন্মুক্ত করে নিতে পারি।

৩. "তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন।" (সূরা নূহ, আয়াত: ১২)

এই আয়াতে আল্লাহ ওয়াদা করছেন, তিনি আমাদের ইস্তিগফারের মাধ্যমে আমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন। জীবন পরিচালনার কঠিন নিষ্পেষণে যারা সর্বদা নিষ্পেষিত হচ্ছে, তাদের উচিত সর্বদা ইস্তেগফার পাঠ করা। আজ যে দরজা বন্ধ রয়েছে, কাল সে দরজা আল্লাহ খুলে দিতে পারেন।

৪. "….তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।" (সূরা নূহ, আয়াত: ১২)

আমরা যা চাই, আল্লাহ আমাদের শুধু তাই দেননা। আমাদের অজানা অনেক প্রয়োজনও তিনি আমাদের জন্য সরবরাহ করেন।

ইস্তিগফার পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে বা শুধু আখেরাতে বাগান ও নদী সহ বিভিন্ন বিলাসের ব্যবস্থাপনার ওয়াদা করেছেন। এই বিলাস ব্যবস্থাপনা অর্জনের জন্য আমাদের উচিত আল্লাহর সন্তোষ অর্জন করা ও বেশি বেশি ইস্তেফার পাঠ করা।

. "….তোমাদের পালন কর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর; তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি ধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন।" (সূরা হুদ, আয়াত: ৫২)

এই আয়াতেও আল্লাহ ইস্তেগফারের জন্য বৃষ্টি প্রেরণের ওয়াদা করছেন। পাশাপাশি বান্দার শক্তি-সামর্থে্যর অধিক শক্তি-সামর্থ্য প্রদানের জন্যও ওয়াদা করছেন। আমাদের যেকোন কাজ করার জন্যই আমাদের শারীরিক, মানসিক, জ্ঞানগত, অর্থগত বা অন্য যেকোন প্রকার শক্তিরই প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের এই শক্তি অর্জনের জন্য আমরা আল্লাহর কাছেই আশ্রয় নিতে পারি।

গুনাহ থেকে মুক্ত থাকার জন্যও আমাদের পরিশ্রম করতে হয়। ইস্তেগফারের মাধ্যমে আমরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মত সামর্থ্য অর্জন করতে পারি।

. "আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশী করে দেবেন।" (সূরা হুদ, আয়াত: ৩)

এই আয়াতে ইস্তেগফারের জন্য উত্তম জীবনোপকরণের ওয়াদা করা হচ্ছে। এখানে নির্দিষ্ট সময়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে দেখানো হচ্ছে, জীবনের কোন কিছুই স্থায়ী নয় এবং জীবনের মেয়াদও ক্ষণস্থায়ী। সুতরাং, ক্ষণস্থায়ী এই জীবনকে আমাদের কাজে লাগানোর জন্য আল্লাহর কাছে সহায়তা চাওয়া জরুরী। এজন্য বেশি বেশি ইস্তেগফার আমাদের জন্য কল্যাণকর হতে পারে।

৭. "….তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ কখনও তাদের উপর আযাব দেবেন না।" (সূরা আনফাল, আয়াত: ৩৩)

মানবজীবনের একটি ভয়াবহতম বিষয় আল্লাহর আযাব। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে, আমাদের উপর যত দুর্যোগ আসে, তা হয় আমাদের পাপের ফলাফল বা না হয় পরীক্ষার উপকরণ। মুসলিম হিসেবে কোনটাই আমাদের কাম্য নয়। বেশি বেশি ইস্তেগফারের মাধ্যমে আমাদের জন্য এসকল বিপর্যয় থেকে মুক্ত থাকতে পারার ওয়াদা আল্লাহ এই আয়াতে করেছেন।

. "হে আমার পালনকর্তা, আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।" (সূরা সাদ, আয়াত: ৩৫)

এটি নবী সুলাইমান (আ.) এর দোয়া। এই দোয়ার সৌন্দর্য হল তিনি তার দোয়ার পূর্বে আল্লাহর কাছে নিজের ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন বা ইস্তেগফার পাঠ করেছেন। তারপর তিনি তার প্রার্থণা করেছেন।

আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করে এমন এক সাম্রাজ্য তাকে দান করেছেন, যার মালিকানা তার পূর্বে ও পরে কেউ হতে পারেনি ও হবেও না।

এদিকে লক্ষ্য রেখে আলেমরা উপদেশ দেন, আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থণার পূর্বে শুরুতেই আমাদের ত্রুটির জন্য আমাদের ক্ষমা প্রার্থনা বা ইস্তেগফার পাঠ করা উচিত। এই পন্থায় আল্লাহ হয়তো আমাদের দোয়া কবুল করবেন।
সমাপ্ত

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

Post a comment

0 Comments