আল্লাহ সবকিছুর জন্য স্থির করেছেন নির্দিষ্ট মাত্রা


লেখাঃ শাহরিন শাফি (আদ্রিতা) (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

যারা ছোট বাচ্চাদের মা, তারা একেকজন Super-woman মাশাআল্লাহ্‌! পদে পদে বাচ্চাকে আগলে রাখছে, একটু চোখের আড়াল হলেই হয়েছে! এই ড্রয়ার খুলে ফেলে দিল, এই আলমারির মাথায় উঠে মেঝেতে লাফ দিলো, এই আস্ত খেলনা টা গিলে ফেললো! সেদিন বান্ধুবীর বাসায় গিয়েছি.. হায়রে ওর ২ বছরের ভাগ্নের লাফালাফি দেখে কে!! তার প্রিয় খেলনা গাড়ি টা তার এতই প্রিয় হয়েছে যে তাকে এখন সেটা খেতে হবে। মানে সে এই গাড়ি গিলেই ছাড়বে। অপ্‌ করে মুখে ঢুকিয়ে দিচ্ছে দেখে দৌড়ে তার মা গিয়ে একটানে মুখ থেকে গাড়ি টা বের করে পিছনে লুকিয়ে ফেললো! ওম্মাহ্‌!!!

পিচ্চির রাগ দেখে কে! নিমেষেই চোখের পানি, নাকের পানিতে একাকার হয়ে, হাত পা ছেড়ে বসে তার-স্বরে সে কি কান্না!!!! মায়ের উপর কি ভীষণ অভিমান! মা আদর করে কোলে নিয়ে কান্না থামাতে যাবে কি, হাত ঝেড়ে মাকে সরিয়ে দিচ্ছে! "...আমাকে আমার খেলনা টা খেতে দিলো না!! কি-ই বা এমন হত খেলনা টা খেতে দিলে!!"

তবুও মা পরম আদরে বাচ্চার কান্না থামাতে, রাগ ভাঙ্গাতে নানান ভঙ্গিমা করে যাচ্ছে! কিন্তু বাচ্চার দৃষ্টি সেই গাড়ির দিকে, সেটাই তার চাই! সেটা খেলে কত মজা হতো কিন্তু মা কেন যে এমন করছে আহারে বাবা টা বুঝতেই পারছে না!!

আমরা প্রতিদিন আল্লাহ্‌র কাছে এভাবেই কতই না খেলনা গিলতে চাই।

— আল্লাহ্‌! প্লিজ আমার অমুকের সাথে বিয়েটা যেন হয়ে যায়!
— আল্লাহ্‌ তমুক কোম্পানির জবটা যেন আমার হয়ে যায়!
— আল্লাহ্‌ ঐ ইউনিভার্সিটীতে আমার চান্স টা যেন হয়ে যায়!

আর যখন আল্লাহ্‌ আমরা যা চাই সেটা আমাদের সেটা দেন না, আমাদের Adult version এর অভিমান আর কান্না-কাটি শুরু হয়ে যায়! কেন আল্লাহ্‌ আমাকে যা চাই সেটা দিলো না! কিন্তু সুবহানআল্লাহ্‌... মা যেমন জানেন যে, বাচ্চাকে খেলনাটা দেওয়ার সাথে বাচ্চাটা এটা গিলে ফেললে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাবে, ঠিক তেমনি আল্লাহ্‌ সুবহানুতা’আলাও জানেন আমরা যেটা চাচ্ছি সেটার মধ্যে আমাদের কল্যাণ নেই! হয়তো ঐ মানুষটার সাথে বিয়ে হলে সংসার টিকবে না, হয়তো ঐ কোম্পানিতে জব করলে হারাম ভাবে উপার্জনের সাথে জড়াতে হবে, হয়তো ঐ ইউনিভার্সিটির থেকেও আরো অনেক ভালো কোন ইউনিভার্সিটি আল্লাহ্‌ বান্দার জন্যে ঠিক করে রেখেছেন! কিন্তু আমরা যেন ঐ বাচ্চার মতই অবুঝ! না!!! আমার সেই জিনিসটাই চাই!! আমরা যেন আল্লাহ্‌র চেয়েও ভালো বুঝি (আস্তাগফিরুল্লাহ্‌), আল্লাহ্‌ কেন আমাকে ঐটা দিলো না! কেন এক্ষুণি এই মুহুর্তে আল্লাহ্‌ আমাকে এটা দিচ্ছেন না! আমরাও অভিমান করি আল্লাহ্‌র সাথে, নামাজ পড়া বন্ধ করে দেই, দুয়া করা বন্ধ করে দেই।

অনেক বছর পরে গিয়ে বড় হয়ে বাচ্চাটা যেমন বুঝবে যে, তার মা তার এত কান্না-কাটি স্বত্তেও তাকে তার খেলনা টা খেতে দেয়নি কারণ তার মা তাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। তাকে জানে বাঁচানোর জন্যেই তার কাছ থেকে তার প্রিয় জিনিস কে দূরে রেখেছিল। তেমনি আমরাও একদিন বুঝবো যে আল্লাহ্‌ আমাদেরকে প্রচন্ড ভালোবাসেন, তিনি তাঁর অসীম জ্ঞান দিয়ে জানেন আমাদের জন্যে বেস্ট কোনটা, সেই বেস্ট টা যেন আমরা পাই, সেজন্যেই আমাদের কাছ থেকে আমাদের “তথাকথিত প্রিয় জিনিস” কে তিনি দূরে রাখেন। আমরা অভিমান করি! তার ইবাদাত ছেড়ে দেই। তাও তিনি পরম যত্নে আমাদের দেখ-ভাল করতে থাকেন, আমাদের খাওয়াতে থাকেন, পড়াতে থাকেন। আর আমরা অকৃতজ্ঞ হয়ে সেই খেলনার শোকে পড়ে থাকি। তিনি আমাদের চাওয়া খেলনা আমাদের দেন না। কারণ, তিনি দিলে আমরাও খেলনাটা খেয়ে ফেলতাম! নিজেদের ধ্বংস নিজে ডেকে আনতাম! আলহামদুলিল্লাহ্‌ আ’লা কুল্লি হাল।

وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُۥٓ ۚ إِنَّ اللَّهَ بٰلِغُ أَمْرِهِۦ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَىْءٍ قَدْرًا

এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।” [সূরা আত্ব-ত্বালাক, আয়াত : ৩]

[1] অর্থাৎ, তিনি যা করতে চান, তা থেকে তাঁকে কেউ বাধা দিতে পারে না।
[2] কষ্টসাধ্য ও সহজসাধ্য সকল কর্মের জন্যই। নির্ধারিত সময়েই উভয় (সহজ ও কঠিন) জিনিসেরই পরিসমাপ্তি ঘটে। কেউ কেউ এর অর্থ নিয়েছেন, মাসিক ও ইদ্দত।

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ