পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে বাস্তবমুখী কিছু কথা


পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে বাস্তবমুখী কিছু কথা

সবাই জানি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরার কথা। জানা সত্ত্বেও নিয়মিত পড়তে পারি না; কেন? সময় নেই? ব্যস্ততা?

প্রতি ওয়াক্ত সালাহ্‌ পড়তে পাঁচ-সাত মিনিট করে লাগলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মেইবি ২৫ থেকে ৩৫ মিনিটের মত লাগবে সবগুলা নামাজ পড়ে শেষ করতে — এই ৩০ মিনিট সময় আমাদের পক্ষে বের করা সম্ভব না সারাদিনের মধ্যে কারণ আমাদের অনেক কাজ। আসলেই কি তাই?

আমরা অনেকেই কিন্তু দিনে পাঁচ বারের বেশি করে খাই; ৩ বেলা খাবারের সাথে স্ন্যাক মিলিয়ে দিলে সহজেই পাঁচ বার খাওয়া হয়ে যায়। আমাদের কিন্তু কখনো মনে হয় না যে, পাঁচ বার করে খাওয়া টা কঠিন কাজ বা, সময় নেই খাবার! কারণ আমাদের ক্ষুধা লাগে, আমাদের বডির একটা প্রয়োজন আছে, সেটা পূরণ করতে খেতে তো হবেই! ঠিক তেমনি বডি ছাড়াও আমাদের সবার ভিতরে একটা আত্মা আছে, যেটাকে আল্লাহ তা’আলা কুর’আনে বলেছেন “রুহ”। এই রুহ্‌-এর ও ক্ষুধা লাগে এবং নামাজ, নেক কাজ হচ্ছে এই রুহ্‌ এর খাবার। রুহ যদি সুস্থ থাকে, তাহলে বডির মত রুহ্‌-এরও পাঁচ বার করে দিনে নামাজের জন্যে ক্ষুধা লাগবে। বডির যেমন খাবার না খাওয়া পর্যন্ত ভালো লাগে না, রুহের-ও নামাজ না পড়া পর্যন্ত শান্তি লাগবে না। দিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কমপ্লিট না হবার পর্যন্ত সে ছটফট করতে থাকবে।

আমরা যতদিন বাঁচবো, আমাদের বডির ক্ষুধা লাগবেই। কেউ মারা না যাওয়া পর্যন্ত তার ক্ষুধা লাগা বন্ধ হবে না। যেই ক্ষুধা লাগা বন্ধ, তার মানে সেই বডি ডেড। ঠিক তেমনি আমাদের রুহের আজকে নামাজের জন্যে কোন ক্ষুধা লাগে না, কারণ আমাদের রুহ্‌ ডেড! আমরা আল্লাহ্‌র অবাধ্যতা করতে করতে আমাদের রুহকে নিয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছি যে ভালো কাজের জন্যে আমাদের রুহের আর কোন ক্ষুধা লাগে না। নামাজের সময় আসে যায়, আমরা একটা সিজদাও দিতে পারি না। দিনের পর দিন চলে যায়, আমরা সব ইবাদাত পিছনে ফেলে ছুটতে থাকি কোন মরিচীকার পিছনে নিজেরাও জানি না।

গুড নিউজ হচ্ছে, যতদিন দুনিয়াতে আছি মৃত রুহকে আবার লাইফে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। রুহকে নামাজ, রোযা, দান-খয়রাত, আল্লাহর যিকির এবং নেক কাজ দিয়ে যত বেশী খাওয়ানো যায়, রুহ্‌ তত বেশি স্ট্রং হয়। আবার নামাজ ছেড়ে দেওয়া, রাগারাগি, খারাপ ব্যবহার, ঠকানো, মিথ্যা — ইত্যাদি খারাপ কাজ করলে রুহ্‌ অনেক উইক হয়ে যায়। ঈমান দুর্বল হতে হতে এক পর্যায়ে ডেড হয়ে যায়।

আমরা মারা গেলে আমাদের বডি মাটির সাথে মিশে যাবে, কিন্তু আমাদের রুহ্‌ ট্রাভেল করে আল্লাহ্‌র কাছে ফিরত যাবে এবং দুনিয়ার আমলের উপর নির্ভর করে হয় জান্নাত পাবে নাহলে জাহান্নাম। আইরোনি হচ্ছে, আমরা সবাই বডির অনেক খেয়াল রাখি, বডিকে খাওয়াই, পড়াই, সুন্দর রাখার চেষ্টা করি। অনেক যত্ন করি আমরা যেই বডিটার — সেটা temporary, অস্থায়ী! আর যেই রুহকে সারাজীবন ইগনোর করে যাই, সেটা permanent, স্থায়ী! আল্লাহ সুবহানুতা’আলা সবাইকে তাওফিক দিন। সবার আগে এই রিমাইণ্ডার টা আমার নিজের জন্যে।
সমাপ্ত 

লেখাঃ শারিন সফি অদ্রিতা (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)
আমীন 🤲

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ