যে ভাবনা অন্তরে কম্পন সৃষ্টি করে

যে ভাবনা অন্তরে কম্পন সৃষ্টি করে

একবার ভাবুন তো, আপনি অসংখ্য সিসি ক্যামেরার আওতায় আছেন! দূর থেকে আপনার সকল কার্যক্রম ও গতিবিধি লক্ষ্য করছে রাষ্ট্রপ্রধান! পাশাপাশি আপনার আশপাশেও নিয়োজিত করা হয়েছে চৌকস গোয়েন্দাদের, যারা সার্বক্ষণিক আপনার ওপর নজর রাখছে। আপনার প্রতিটি নড়াচড়া তারা লিপিবদ্ধ করে রাখছে। কোথায় যাচ্ছেন, কী বলছেন, কী করছেন; সব তারা রেকর্ড করছে। আপনি যে তাদের নজরদারিতে রয়েছেন, তা আপনাকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। আপনাকে তারা পরীক্ষা করতে চাচ্ছে যে, আপনি তাদের অনুগত কিনা। তারা জানতে চাচ্ছে, আপনি নিয়মের বাইরে আপনার মনমতো চলেন কিনা। তারা দেখতে চাচ্ছে, আপনি কতটা সংযমের সহিত চলাফেরা করতে পারেন।

এমনটা হলে আপনি কী করবেন? আপনি কি স্বস্তিতে থাকতে পারবেন? আপনি কি উশৃঙ্খল ও বেআইনিভাবে চলাফেরা করতে পারবেন? আপনার কি রাতে ভালো করে ঘুম হবে? আপনার লাইফস্টাইল কি অন্য আর দশজনের মতো হবে? কক্ষনো নয়। বরং নিশ্চিতই আপনি সদাসতর্ক থাকবেন। কঠোর অধ্যবসায়ের সহিত নিয়মনীতি মেনে চলবেন। সব ধরনের বিশৃঙ্খলা ও বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকবেন। কারণ, আপনি জানেন, আপনাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আপনার ভালো করেই জানা আছে যে, আপনার প্রতিটি নড়াচড়া দেখা হচ্ছে। তাই আপনি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। হাজারও কষ্ট হলেও নিয়মের বাইরে নিজের মনমতো কিছু করছেন না। এর জন্য আপনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করছেন।

এটা ছিল একটি কল্পনা। একটি উদাহরণ। কিন্তু আপনি কি জানেন, সত্যিসত্যিই আপনি নিবীড় পর্যবেক্ষণে আছেন? আপনার ওপর অসংখ্য নিখুঁত সিসিক্যামেরা লাগানো আছে? আপনার প্রতিটি নড়াচড়া লিপিবদ্ধ করার জন্য বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ দেওয়া আছে? জি, ভুল বলছি না; সত্যিসত্যিই আছে। মহান আল্লাহ আমাদের তা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন প্রতিটি বস্তু তার ইলমের আওতায় রয়েছে। তিনি সবকিছু দেখছেন, পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি আপনার সকল কার্যক্রম লিপিবদ্ধ ও রেকর্ড করার জন্য তিনি নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন তাঁর বিশ্বস্ত সোর্স ফেরেশতাদের। এত এত নজরদারির মধ্যে থেকে আপনি কীভাবে নিশ্চিন্তে ঘুমান? কীভাবে মনমতো চলাফেরা করেন?? আর কীভাবেইবা মহান রবের অবাধ্যতায় লিপ্ত হন???

দুনিয়ার জীবনে যখন কারও গোপন ও নিষিদ্ধ কর্মের সিসিক্যামেরা রেকর্ড ফাঁস হয়, তখন তার কী অবস্থা হয়, তা কি দেখেছেন? সে কি তখন কারও সামনে মুখ দেখাতে পারে? অনেকে তো লজ্জা ও অপমানে আত্মহত্যাই করে বসে। আপনি নিজের ব্যাপারে কি কখনো ভেবে দেখেছেন, যদি আপনার জীবনের সকল পাপের রেকর্ড প্রকাশ করে দেওয়া হয়, তখন কি আপনি বেঁচে থাকতে চাইবেন? লজ্জায় মরে যেতে চাইবেন না? অথচ দুনিয়ার জীবনে আপনার পাপকর্মের কথা কয়জনইবা জানবে!? তবুও আপনি লজ্জায় কারও সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না। কিন্তু কিয়ামতের দিন যখন আপনার জীবনের সকল কর্মের রেকর্ড প্রকাশ করা হবে পুরো মানবজাতির সামনে, সেদিন কী অবস্থা হবে? ওহ! কী ভয়াবহ অবস্থাই না দাঁড়াবে সেদিন।

আল্লাহ তাআলা বলছেন, "আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তখন তাতে যা (লেখা) রয়েছে, তার কারণে তুমি অপরাধীদের ভীত দেখবে। তারা বলবে, “হায় আমাদের কপাল! এ কেমন আমলনামা? এ যে ছোট-বড় কিছুই বাদ দিচ্ছে না! বরং সবই গুনে রেখেছে।” তারা যা করেছে, সবই উপস্থিত (দেখতে) পাবে। আর তোমার রব কারও প্রতি অবিচার করেন না।" [সুরাহ আল-কাহ্ফ, আয়াত : ৪৯]

অন্যত্র তিনি বলেন, "সুতরাং যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করে, সে তা দেখতে পাবে। আর যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করে, সেও তা দেখতে পাবে।" (সুরাহ যিলযাল, আয়াত : ৭-৮)

তাই হে দুনিয়ার ধোঁকায় প্রতারিত ব্যক্তি! আজ থেকেই সতর্ক হও। অতীতের কথা স্মরণ করে ভীত-সন্ত্রস্ত হও। পূর্বে যত পাপ আর আল্লাহর অবাধ্যতা করেছ, তার সকল হিস্টোরি স্থায়ীভাবে ডিলেট করে দাও। আর এর একমাত্র উপায় হলো, খালিস দিলে তাওবায়ে নাসুহা করা। পূর্বের ভুলত্রুটির জন্য অনুতপ্ত হওয়া। আর ভবিষ্যতে পাপ না করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া। এমন একনিষ্ঠ তাওবা ও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটির মাধ্যমে যদি নিজের জীবনের কালো অধ্যায় মুছে দিতে না পারো, তবে কিয়ামতের দিন সমগ্র মানবজাতির সামনে অচিন্তনীয় অপমান ও লজ্জার সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখো।

হে আমাদের মহান রব, আপনি আমাদের ক্ষমা করুন। আপনি আমাদের ওপর রহম করুন। আমরা খালিস দিলে তাওবায়ে নাসুহা করছি। পূর্বের পাপের জন্য অনুশোচনা করছি, অনুতপ্ত হচ্ছি এবং ভবিষ্যতে আপনার অবাধ্যতা না করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হচ্ছি। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের কবুল করুন এবং আপনার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
সমাপ্ত

লেখাঃ শেইখ তারেকুজ্জামান তারেক (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ