এবারের থার্টি ফার্স্টে আপনার অর্জন কী? প্ল্যান কী?

এবারের থার্টি ফার্স্টে আপনার অর্জন কী? প্ল্যান কী?

থার্স্টি ফার্স্টে আপনিও রাত জাগেন। মুমিন হিসেবে এই জাগরণ কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রতিটা দিনের মতই। মুমিন হিসেবে প্রতি রাতের কিয়দংশ জেগে কাটান। রাতের শেষ তৃতীয়াংশ। এই সময় আল্লাহ আসেন নিকট আসমানে। দয়া চেয়ে নিন। উনি যখন এতটা নিকটে এই সময় তাদের মত হয়েন না যারা তাঁর নিষিদ্ধ কাজে মত্ত রয়েছে।

বরং দাঁড়িয়ে যান আপনার রবের স্মরণে।

বলতে থাকুন,

"হে আমার রব! এত বছর বুঝে না বুঝে থার্স্টি ফার্স্ট পালন করে এসেছি। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও। আর কখনই তোমার অসন্তোষের স্রোতে গা ভাসাব না"

"হে আমার রব! আমার অন্য বন্ধুরা এখন মজা আনন্দ করছে। হারাম করছে। কেউ তো নেশাগ্রস্ত হচ্ছে, কেউ বা হারাম ভাবে বান্ধবী নিয়ে শুয়ে কাটাচ্ছে। কেউ বা ছাদে মুভি গান বাজনা ময় রাত পার করছে। আল্লাহ তুমি ওদের হেদায়াত দান করো। তুমি তো চাইলে এই অবস্থায় ওদের মৃত্যু দান করতে পারো; আল্লাহ ওদের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ দিও"

"হে আল্লাহ! কী করে তোমাকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি আমার কাছে যে ভাষা নেই যে তুমি আমাকে তাদের কাতারে অন্তর্ভুক্ত করোনি।"

"হে আল্লাহ! আজ আমিও যদি তাদের অবস্থানে থাকতাম, এসব করতাম, আমার পরিবার জানত না। মা বাবা জানত না। আত্মীয় স্বজন জানত না। তোমার ইচ্ছাতেই, কেবলমাত্র তোমার ভয়ে এই কাজ থেকে বিরত থেকেছি। এর বিনিময়ে আমি শুধুই তোমার ভালবাসা চাই। তোমাকে চাই। তোমাকে পেয়ে জান্নাতে যেতে চাই। যে কিনা তোমাকে পেল, সে তো সবই পেল। তোমাকে অসন্তুষ্ট করে কেউ যদি তোমাকে হারাল, তার আর হারানোর কী ই বা আছে! "

"হে আল্লাহ! সারাজীবন আমার মনে তোমার ভয় বহাল রেখো।”

"হে আল্লাহ, প্রিয় নবী (সাঃ) তো বলে গিয়েছেন, তুমিই তাঁকে দিয়ে বলিয়েছো,

“যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কৃষ্টি-কালচারের অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে এবং যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়কে মহব্বত করবে, তাদের সাথে তার হাশর হবে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৫১৪)

হে আল্লাহ! আমি বিধর্মীদের উৎসব অনুকরণ করে ইসলাম থেকে খারিজ হতে চাইনা। তুমি আমাকে এই বদ কপাল নসীব করোনা। মুসলিম হয়ে জন্মেও সামান্য একটা ভুলের কারণে কাফেরদের সাথে হাশর চাই না।

হে আল্লাহ! হে রাহমানুর রাহীম৷ তুমি তো জ্ঞাত আছই, তবুও বলি, আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, প্রিয় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:

مَنْ تَنَافَى أَرْضَ الأَعَاجِمِ فَصَنَعَ نَيْرُوزَهُمْ وَمَهْرِجَانِهِمْ حُشِرَ مَعَهُمْ

অর্থ: যে অনারব দেশ বিচরণ করে, অতঃপর তাদের নওরোজ ও মেহেরজান উৎযান করে, তাদের সাথে তাকে উঠানো হবে” (সুনানে বায়হাকী ২য় খণ্ড, ৩২৫ পৃষ্ঠা)

ইবনে তাইমিয়াহ বলেছে : “এ হাদীস প্রমাণ করে যে, মুসলমানদের জন্য কাফেরদের উৎসব পালন করা হারাম।

কারণ, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আনসারদের জাহিলী যুগের দু’টি উৎসব বহাল না রেখে রহিত করে দিয়েছেন।

তাদের রীতি অনুযায়ী সেই দুইদিন তাদের আমোদ উৎসবের অনুমতি দেননি। বরং তা রদ করে বলেছেন — “নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দু’টি বদল করে দিয়েছেন।”

এর দাবী হচ্ছে–পূর্বের আমল ত্যাগ করা। কারণ, বদল করার পর উভয় বিষয়কে জমা করা যায় না। কেননা, বদল শব্দের অর্থ হলো, একটি ত্যাগ করে অপরটি গ্রহণ করা।”। (ফাইজুল কাদির, ৪র্থখণ্ড, ৫১১ ‍পৃষ্ঠা)

"হে আল্লাহ! হে ভালবাসাময় স্বত্তা, বরকতের উতস, হেদায়াতের মালিক, প্রশান্তি দানকারী..

আমাদের রাত গুলোতে বরকত দান করো। মধ্য ও শেষ রাতে ইবাদাতের ব্যাপারে হেদায়াত দান করো, আমাদের নিদ্রার মধ্যে প্রশান্তি ঢেলে দিও এবং

জীবনের প্রতিটি রাতকে অশ্লীলতা-বেহায়পণা, গানবাজনা, অর্থ অপচয়, অবাধ মেলামেশা, নেশাদ্রব্য সেবন প্রভৃতি অপকর্ম সর্বপরি তোমার অসন্তুষ্টি, ক্রোধ থেকে হেফাজাত করো।

তোমার অসন্তুষ্টিতে কাটানো কোন রাত যেন জীবনের সেই রাত না হয় যে রাতের নিদ্রা ভাংবে একেবারে কবরে যেয়ে, প্রায়শ্চিত্তের সুযোগ না দিয়ে আমাদের কারোর কাছে মালাকুল মাউত পাঠিও না।

আল্লাহ আমাদের মানসিক শক্তি দান করো এই ব্যাপারে, যে আমরা সামাজিকতা রক্ষাকে যেন তোমার অপছন্দের উপর প্রাধান্য না দেই।

'মানুষ কী ভাবল' কে 'তুমি কি ভাবছো' এর উপর প্রাইওরিটি না দেই।

বরং তোমার জন্য, তোমাকে ভালোবেসে এবং তোমাকেই ভয় করে সকল সামাজিকতা রক্ষা, মানুষ কী ভাবল এই সব চিন্তা ছুড়ে ফেলতে পারি।

হে আল্লাহ তুমি তো বলেছ যে, যাদেরকে প্রতিদিন একটু একটু করে জান্নাতের কাছে আনা হবে এবং একটু একটু করে জাহান্নাম থেকে দূরে সরানো হবে সেই সফল।

দিন শেষে ঘুমোতে যাবার বেলায় যখন নিজেদের প্রশ্ন করি, আজকের সারাদিনের কাজকর্ম কী আমাকে জাহান্নাম থেকে সামান্য হলেও কি দূরে সরিয়েছে? নাকি জাহান্নাম আরেকটু কাছে চলে এসেছে।

উত্তর পেয়ে মাঝে মাঝে খুশি হয়ে যাই। মাঝে মাঝে তো আঁতকে উঠি। হে আল্লাহ তুমি খুশি করো, আতংকিত করোনা।

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম।

নারীকে জড়িয়ে বিভিন্ন অশ্লীলতা নববর্ষের পার্টি বা “উদযাপন আয়োজনের” অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে নারীর সহজ-লভ্যতা – নিউ-ইয়র্কের টাইম স্কোয়ারে অথবা ঢাকার গুলশান ক্লাবে – পশ্চিমেও এবং তাদের অনুকরণে আজ সমাজের সর্বব্যাপী।

ইয়া আল্লাহ! থার্টি ফার্স্ট নামক জাহেলিয়াত ফিতনা থেকে আমাদের হিফাজাত করুন।

সবাইকে বুঝার তাওফীক দান করো যে এই থার্টি ফার্স্টের অনুষ্ঠানাদির মধ্যে সমাজ-বিধ্বংসী যে বিষয়গুলো পাওয়া যাবে, তার মাঝে অন্যতম হচ্ছে নারীকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীলতা।

নিশ্চয় তুমি অশ্লীলতা পছন্দ করোনা, কোরআনে অনেক বার ঘোষণা দিয়েছ। আমরাও যেন একে অপছন্দ করি সেই ব্যাপারে হিদায়াত দান করো।

আর ঈমান -বিধ্বংসী যে চারটি বিষয়গুলো পাওয়া যাবেঃ

• শিরকপূর্ণ অনুষ্ঠানাদি, চিন্তাধারা ও সংগীত
• নগ্নতা, অশ্লীলতা, ব্যভিচারপূর্ণ অনুষ্ঠান
• গান ও বাদ্যপূর্ণ অনুষ্ঠান
• সময় অপচয়কারী অনর্থক ও বাজে কথা এবং কাজ

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তোমার আনুগত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার তাওফীক দান করুন, এবং কল্যাণ ও শান্তি বর্ষিত হোক নবী (সা.) এঁর ওপর, তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর।

হে আল্লাহ! শেষ করি এই কথা বলে, আমরা যেন তুমি ভীরু হয়ে তোমার এই বাণীর উপর আমল করতে পারি..

"এবং তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার পরিধি আসমান ও জমীনব্যাপী, যা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ভীরুদের জন্য।" [আলে-ইমরান, ৩:১৩৩]
সমাপ্ত

লেখাঃ শাহ মোহাম্মদ তন্ময় (আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ