তাদের উপর স্তরে স্তরে পাথর বর্ষণ করলাম


লূত (আ.)-এর স্ত্রী নিজে সমকামী ছিলো না, কিন্তু সে সমকামীদের পক্ষে ছিলো। আল্লাহর আযাবে সে-ও ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো।

সেই ১৫০০ বছর আগে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশঙ্কা করেছিলেন—“আমার উম্মতের যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো, পুরুষে-পুরুষে যৌন মিলনে লিপ্ত হওয়া।” [ইবনু মাজাহ: ২৬১১, তিরমিযি: ১৪৫৭]

নবীজির আশঙ্কাই এখন বাস্তব হচ্ছে। অবাধ যৌনতায় অভ্যস্ততা, পর্নোগ্রাফির ভয়াবহ থাবা ও নতুনত্বের স্বাদে বিভোর কুৎসিত চিন্তাধারী পশ্চিমাদের অনুকরণে এখন মুসলিম সমাজেও এই জঘন্য পাপ ও বিকৃত যৌনাচারটি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। আপনারা দেখেছেন, রবি টেন মিনিট স্কুলের এক শিক্ষক শামির মোনতাজিদ সমকামিতাকে সমর্থন করে ফেইসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং কথিত লিবারেল চিন্তার অনেক ফিগারও তা সমর্থনও করছে প্রকাশ্যে। অথচ এসব সেলিব্রেটিদের ফলো করে এদেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণী।

আল্লাহ্ ‘আযযা ওয়া জাল্লা পূর্বের অনেক জাতিকে বিভিন্ন অপরাধ ও হঠকারিতার কারণে গজব দিয়ে ধ্বংস করেছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক গজবটি এসেছিলো লূত (আ.)-এর সমকামী জাতির উপর। কারণ তারাই পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম এই বিকৃত যৌনতার সূচনা করেছিলো।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আমি লূতকে প্রেরণ করেছিলাম। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বললো, তোমরা চরম অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতার কাজ করছো, যা তোমাদের পূর্বে পৃথিবীতে কেউ কখনো করেনি। তোমরা কামপ্রবৃত্তি পূরণ করার জন্য মেয়েদের কাছে না গিয়ে পুরুষদের কাছে যাচ্ছো। প্রকৃতপক্ষে তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।” [সূরা আ’রাফ, আয়াত: ৮০-৮১]

অন্য আয়াতে তাদের এই অপকর্মের শাস্তির বিবরণ এসেছে, “অবশেষে আমার (আল্লাহর) আদেশ চলে আসলো; তখন আমি উক্ত জনপদকে ধ্বংস করে দিলাম এবং তাদের উপর স্তরে স্তরে পাথর বর্ষণ করলাম।” [সূরা হুদ, আয়াত: ৮২]

বর্তমানে আমরা dead see বা মৃত সাগর নামে যেটিকে চিনি, সেখানেই সাদূম নগরের অধিবাসী লূত (আ.)-এর অবাধ্য জাতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিলো। সেখানে তাদেরকে জমিনে উল্টিয়ে দেওয়া হয়েছিলো এবং একই সাথে তাদের ওপর পাথরবৃষ্টি হয়েছিলো। সেই dead see বা মৃত সাগরে কোনো জলজ প্রাণি বেঁচে থাকতে পারে না, এটি এতটাই লবণাক্ত। সেখানে আরো অনেক অদ্ভুত বিষয় আছে, যা রীতিমতো ভীতিকর।

অনেকেই বলেন, তারা নিজেরা সমকামী নন, কিন্তু সমকামীদের প্রতি তাদের সমর্থন আছে। এই চিন্তা ভয়ানক ও ঈমানবিধ্বংসী। কুরআন-হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত কোনো হারামকে কেউ যদি হালাল মনে করে, তবে সে মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত মতে কাফির হয়ে যাবে; এমনকি সে সেই হারাম কাজটি করুক বা না করুক। তবে, কেউ যদি হারামকে হারামই মনে করে, কিন্তু নিজের নফসের (প্রবৃত্তির) কাছে হেরে গিয়ে সেই গুনাহে লিপ্ত হয়, তবে সে কাফির হবে না; তবে গুনাহগার হবে। সুতরাং, সমকামিতার মত জঘন্য হারাম কাজকে সমর্থন করে নিজের মহামূল্যবান সম্পদ ঈমান খোয়াবেন না। লূত (আ.)-এর স্ত্রী সমকামী ছিলো না, তবে সে সমকামীদের সাথে গোপনে সম্পর্ক রাখতো, তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করতো। ফলে আল্লাহর গজবে লূত (আ.) এবং তাঁর পরিবার রক্ষা পেলেও স্ত্রী রেহাই পায়নি; সে সমকামীদের সাথে ধ্বংস হয়ে গেছে। [সূরা তাহরিম, আয়াত: ১০-এর তাফসির দ্রষ্টব্য]

ইমাম ইবনু আব্দিল বার (রাহ.) বর্ণনা করেন। ‘আদি বিন হাতিম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (খ্রিষ্টান থাকাকালে) গলায় ক্রুশ ঝুলানো অবস্থায় আমি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলাম। তখন তিনি বললেন, ‘‘হে হাতিমপুত্র আদি! তোমার গলা থেকে এ মূর্তি ফেলে দাও।’’ তিনি সূরা তাওবাহ তিলাওয়াতকালীন আমি তাঁর নিকট পৌঁছুলাম। তিনি সূরা তাওবাহ তিলাওয়াত করতে করতে যখন—
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ
[‘তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদেরকে তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে।’ সুরা তাওবাহ, আয়াত: ৩১]

এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছুলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করিনি! তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ করেছো। তোমাদের জন্য যা হারাম করা হয়েছিল, তারা কি তা হালাল করেনি, ফলে তোমরাও তা হালাল বলে গ্রহণ করেছো? আর তোমাদের জন্য যা হালাল করা হয়েছিল, তারা কি তা হারাম করেনি, ফলে তোমরাও তা হারাম বলে গ্রহণ করেছো?’’ আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, ‘এটাই ছিল তাদের (ধর্মগুরুদের) ইবাদত ও উপাসনা।’ [(মূল হাদিস: তিরমিযি: ৩০৯৫, সনদ হাসান) জামি‘উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদ্বলিহি: ২/৯৭৫]

সমকামিতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। দুজনের উপরই এই শাস্তি কার্যকর হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা যদি কাউকে লূতের জাতির মতো কুর্কমে লিপ্ত দেখতে পাও, তাহলে কর্তা ও যার সঙ্গে করা হয়েছে, তাদের উভয়কে হত্যা করো।’’ [আবু দাউদ: ৪৪৬২, হাসান সহিহ]

উল্লেখ্য, সাধারণ মানুষ এই শাস্তি বাস্তবায়ন করবে না। তাহলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। মুসলিম শাসকদের উপর ফরজ, এই শাস্তি বাস্তবায়ন করা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমার উম্মত যখন পাঁচটি বিষয়কে হালাল করে নেবে, তখন তাদের উপর ধ্বংস নেমে আসবে। তার মধ্যে একটি হলো: পুরুষ-পুরুষে ও নারী-নারীতে সমকামিতা করা।’’ [বাইহাকি, শু‘আবুল ঈমান; তাবারানি; সহিহুত তারগিব: ২৩৮৬; সনদ হাসান]

সুতরাং আল্লাহর গজব থেকে বাঁচতে এই ধ্বংসাত্মক বিকৃত যৌনতার বিরুদ্ধে প্রত্যেকের সোচ্চার হওয়া জরুরি।

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

Post a comment

0 Comments