দাইয়ুস ব্যক্তি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন


• ট্রেইন্ড অনুভূতি আর কিছু মাপা হাসির গল্প •

বিক্রি হয়ে যায়। পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যায় মেয়েটার শরীর। চওড়া দামে বিক্রি হয় তার চুল, নখ, চোখ, চোখের চাহনী, গায়ের সাদা মাংস, ঠোঁট; শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি ইঞ্চি রোমকূপ। সমাজের উঁচু চেয়ার দখল করে বসে থাকা কর্পোরেট গুরুদের চাই তার সব সঅঅব কিছু। তার উপরে, নিচে, ডানে, বাঁয়ে সবদিক থেকে প্রস্তুত সতর্ক ক্যামেরা। চারপাশে চোখ ধাঁধাঁনো উজ্জল আলোর ঝলকানি। যতটা কাছ থেকে পারা যায় তুলতে হবে সাবজেক্টের ছবি। সাবজেক্টের কোন কিছুকেই বাদ দেওয়া যাবে না। যেভাবেই হোক ফুটিয়ে তুলতে হবে সাবজেক্টের শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি ইঞ্চি রোমকূপের সৌন্দর্য্য, কোমলতা। সে ছবিতে ব্যবসা হবে, ব্যবসা হবে কোটি টাকার।

হাঁটে ওঠা গরুর মতো খদ্দেররা তাকে যাচাই করে। সামনে, পেছনে, ডানে, বায়ে সবদিকে থেকে সে হেঁটে দেখায় সে খদ্দেরদের। নেচে, গেয়ে যতভাবে সম্ভব সে নিজেকে মেলে ধরে। মোবাইলের এসএমএসে হাঁকা হয় তার দাম। যার ঝুলিতে যত বেশি এসএমএস তার দাম তত বেশি এই হাঁটে। বাজারে দাম বাড়াবার প্রতিযোগিতায় বাধ্য মেয়েটা নেমে পড়ে অসুস্থ এক প্রতিযোগিতায়। জয়ী হওয়ার বাসনা তার অন্তরে। জয়ী হওয়ার প্রবল বাসনা থেকে সে তার সবকিছুকে উজাড় করে দিতে চায়। জিততে যে তাকে হবেই। তার ঘরের কোণের বোকা বাক্সটা ছোটবেলা থেকেই তাকে শিখিয়েছে - সৌন্দর্য্য ছাড়া সে মূল্যহীন। সে কখনোই প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না, ভালো চাকরি, বিয়ে কিছুই হবে না। এসব কিছুকেই সম্ভব করতে পারে কেবল তার রুপের চোখ ধাঁধানো ঝলকানি।

দিনের পর দিন দালালগুলো যাদের ভদ্র সমাজে আদর করে কর্পোরেট গুরু ডাকা হয় তারা বেশ সফলভাবে, পরম মমতায় মেয়েটার মাথায় প্রোগ্রামিং করে দিয়েছে ভাবনাগুলো। তাকে শিখিয়ে-পড়িয়ে ট্রেইনড করে তুলেছে কি করে নিজেকে বিক্রি করতে হয়। কি করে গালে, ঠোঁটে রঙ মেখে ভাঁড় সেজে কোটি কোটি মানুষের সামনে বলতে হয় - আমাকে যদি আপনাদের ভালো লাগে টাইপ করুন xxxx xxxx। সে হয়তো কখনো জানতে পারে না কর্পোরেট গুরুদের ভাষায় সে কেবলই একটি 'প্রোডাক্ট। খোলা বাজারে তার শরীরের সাদা চামড়া বিক্রি করে তাদের ঘরে চাল হয়। সে হয়তো জানতে পারে না, তার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি ইঞ্চি অংশ চোখ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ খায়। চেটেপুটে খায়। যার যেভাবে খুশি সেভাবে খায়। তাকে একজন মানুষ হিসেবে কোনদিন সম্মান করা হয় না। তাকে দেখা হয় কেবলমাত্র একটি ভোগের, বিনোদনের বস্তু হিসেবে।

আদর করে তাকে হয়তো সুপারস্টার খেতাবটা দেওয়া হয়। সাথে থাকে অর্থ, যশ, খ্যাতি আর হাততালি। কিন্তু দিনশেষে কেউ প্রোডাক্ট, কেউ 'মাল' আবার কেউ ‘কঠঠিন জিনিস’ বলেই সম্বোধন করে। মাঝে মাঝে হয়তো তার খুব কষ্টও হয়, ঘেন্না হয়। নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে ইচ্ছে হয় খুব করে। কিন্তু ততদিনে খুব বেশি দেরি হয়ে যায়। সে তখন জানে কেবল একটিমাত্র অনুভূতি প্রকাশ করতে। ''ট্রেইনড হাসির'' অনুভূতি। তাকে ট্রেনিং দিয়ে শেখানো হয়েছে মুখটা কত ডিগ্রি এঙ্গেলে, ঠোঁটটা ঠিক কতটুকু কাত করে হাসলে খুব করে হাততালি পড়বে। মানুষ খুব খুশি হবে। তার সে মাপা হাসির নিচে চাপা পড়ে যায় তার শত শত অনুভূতি, শত শত ইচ্ছে, স্বপ্নগুলো। আজ আর তার নিজের বলে কিছু নেই, কেউ নেই। তার কোন স্বকীয়তা নেই। সে এখন বিক্রি হয়ে গেছে। পুরোপুরি বিক্রি! (১)

© Armaan Ibn Solaiman

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির জন্যে আল্লাহ তা’আলা জান্নাত হারাম করেছেন, "নেশাদার দ্রব্যে আসক্ত ব্যক্তি, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, এবং দাইয়ুস।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৫৮৩৯)

দাইয়ুস সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ঐ ব্যক্তিকে দাইয়ুস বলা হয় যে তার পরিবারের অশ্লীলতা ও কুকর্মকে মেনে নেয়।” (মুসনাদ আহমদ, নাসাঈ)

অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রী-কন্যা সহ পরিবারের অধীনস্ত অন্য সদস্যদের বেপর্দা চলাফেরা ও অশ্লীল কাজকর্ম বা ব্যভিচারকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে অথবা কোনরূপ বাধা না দিয়ে মৌনতা অবলম্বন করে।

ইমাম যাহাবী (রহ.) বলেছেন, ‘দাইয়ুস’ সে ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর ফাহেশা কাজ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু তার প্রতি ভালোবাসার কারণে এ ব্যাপারে সে উদাসীন থাকে। অথবা তার উপর তার স্ত্রীর বৃহৎ ঋণ বা মোহরানার ভয়ে কিংবা ছোট ছেলে-মেয়েদের কারণে সে স্ত্রীকে কিছুই বলে না এবং যার আত্ম-সম্মানবোধ বলতে কিছুই নেই’। (যাহাবী, কিতাবুল কাবায়ের - ১/৫০)

হাদিসটির ব্যখ্যা বিস্তারিত। তবে এখানে মূল বিষয় হল ফাহেশা বা অশ্লীলতা। যে তার নিজ পরিবারে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে শিথিলতা প্রদর্শন করে, স্ত্রী-কন্যাদেরকে পর্দার আদেশ করে না, পর্দাপালনে উৎসাহিতও করে না, ঘরে নিষিদ্ধ গান-বাদ্য দিব্যি চলে, এর কোন প্রতিবাদ করে না; এ রকম সকল শরীয়াহ বিরোধী অশ্লীলতাকে মেনে নেয় – সে ব্যক্তি 'দাইয়ুস'।

এ ব্যক্তি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, “দাইয়ুস কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (নাসায়ীঃ ২৫৬২, মিশকাতঃ ৩৬৫৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, “জেনে রাখো, তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং নিজ নিজ অধীনস্থের বিষয়ে তোমাদের প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে। অতঃপর দেশের শাসক জনগণের উপর দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের উপর দায়িত্বশীল। অতএব, সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীগৃহের উপর দায়িত্বশীলা। কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। দাস তার প্রভুর সম্পদের দায়িত্বশীল। সেও এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।” (বুখারী : ৮৯৩; মুসলিম : ১৮২৯)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন, “হে বিশ্বাসী বান্দাগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয় ও কঠোর স্বভাবের ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তারা তা-ই করে যা করতে তাদের আদেশ করা হয়।” (সূরা তাহরিম-৬)

দাইয়ুস ও এর পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সা. এর হাদিসের ভাষ্য তো স্পষ্ট। এবং আল্লাহর রাসুল বলেও দিলেন আমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং অধীনস্থদের সম্পর্কে আমরা অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবো। উপরন্তু আল্লাহ তা’আলা আদেশও করেছেন বান্দা যেন নিজেদেরকে এবং পরিবার-পরিজনদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচায়। তাই সাধারণভাবে সমস্ত অধীনস্থদেরকে এবং বিশেষভাবে পরিবার-পরিজনদেরকে যাবতীয় বেহায়াপনা, অশ্লীলতা-অন্যায়-পাপাচার এবং বে-পর্দা চলাফেরা করা থেকে বিরত রাখা এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানো আমাদের উপর ফরয।

এখন নিজেকে প্রশ্ন করা উচিৎ, আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব কতটুকু নিষ্ঠার সাথে পালন করছি? অথবা আদৌ পালন করছি কি? বা এই দায়িত্বের অনুভূতিটুকুও কি আমার মাঝে আছে? তাহলে কি আমি দাইয়ুসদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাচ্ছি? আমি কি প্রস্তুত সেই জাহান্নামের জন্য যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর?

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ