আমার বন্ধুদের কেউ ইসলাম পালন করে না, আমি কি করতে পারি?

আমার বন্ধুদের কেউ ইসলাম পালন করে না, আমি কি করতে পারি?


যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর। দরুদ ও সালাম আল্লাহর রাসূল (সা) এর উপর। পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

ইসলামের উপর অবিচল থাকা হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কাজ বর্তমানে। পারিপার্শ্বিক নানা কারণে ঈমানের অবস্থা সবসময় উঠা নামা করতে থাকে। ঈমানের চর্চা না করলে তা হ্রাস পেতে থাকে। ঈমানকে উপরের দিকে রাখার উপায় হল সবসময় ভাল কাজ করা, ভাল জিনিস চিন্তা করা, খারাপ বর্জন করা। এসব কাজ করাও সহজ হয় যদি দ্বীনদারদের সাথে থাকা যায়।

মূলত ইসলাম পালন অনেক টাই নির্ভর করে আমরা কাদের সাথে থাকছি। মিশছি। কাদের বন্ধু হিসেবে নিচ্ছি তার উপরে।

আমরা কাদের সাথে আছি এটা আমাদের আচার আচরণ জীবন যাপন সব কিছুর উপরেই প্রভাব ফেলে। দ্বীনদারদের সংস্পর্শে থাকলে ঈমান টিকে থাকে। এবং তাদের সাথে সাথেই ঈমানের লেভেলও বাড়ে। অপরদিকে দুনিয়াদার মাস্তি জীবন মনোভাবের মানুষদের সাথে চললে। ঈমানত বাড়েই না বরং কমে যায়।

ইমাম গাজ্জালি (রহ.) এমন বলেছিলেন, ‘সবাইকে বন্ধু নির্বাচন করা যাবে না; বরং তিনটি স্বভাব যার মাঝে বিদ্যমান, এমন লোককে বন্ধু নির্বাচন করা চাই। তিনটি গুণ হলো,

• বন্ধুকে হতে হবে জ্ঞানী, বিচক্ষণ।
• বন্ধুর চরিত্র হতে হবে সুন্দর ও মাধুর্যময়।
• বন্ধুকে হতে হবে নেককার, পূণ্যবান।

বন্ধুদের কাজের ছাপ অন্যদের উপর পরেই। একজনের কথা শুনেছিলাম। সে স্কুল কলেজে ইসলামে আগ্রহী ছেলেদের সাথে মিশত। তখন ইসলামি ছিল। কিন্তু ভার্সিটিতে এসে দুনিয়াদার ছেলেদের সঙ্গে চলতে চলতে সবই হারায় ফেলছে। আবার আরেকজন খারপ কিছু করতে বাকি রাখে নাই, পরে দ্বীনের বুঝ আসল দ্বীনদার ছেলেদের সাথে মিশে।

আমি যদি দ্বীনের প্রতি সিরিয়াস মানুষদের সাথে চলতে থাকি তবে আমার আগ্রহ বাড়বে। তারাই আমাকে টেনে নিয়ে যাবে মুক্তির দিকে। অনেক সময় প্রথমে এটা আমাদের বাজে লাগবে। যে তারা কেন এমন। আমার নফসের চাহিদার সাথে তাদের ত কোন মিলিই নাই। তবে এটাই উত্তম। তাই আপনি দ্বীনী ভাইদের সাথে সম্পর্ক করার চেস্টায় থাকুন।

অপরদিকে যদি দুনিয়াদার দলের ভিতর থাকি। তবে দলের বাইরে থেকে দুএকটা ইসলামি দাওয়াত কানে এসে পৌঁছালেও তা জীবনে প্রভাব ফেলবে না। দেখা যায় যে দলে সারাদিন মুভি সিরিয়ালের আলোচনা হয় সেখানে বসে থাকলে এগুলোর প্রতি আগ্রহ জন্মাবেই। সেলফি মেয়েদের দলে থাকলে নিজে সেলফি না তুললেও অন্যের সেলফিতে চেহারা উঠবেই।

ইসলামের কোন সুন্নত পালন করতে চাইলে, বা কোন হারাম বাদ দিতে চাইলেও বন্ধুদের কারণে দেখা যায় তা হচ্ছেই না। বা কিছুদিন হচ্ছে আবার কিছুদিন হচ্ছে না। দেখা যায় জন্মদিন পালন, বা এর উইশ করা হারাম জানলেও দলের অন্যরা কি মনে করবে, কষ্ট পাবে ভেবে করতেই হয়!!!

ফাসেক মানুষদের দলে ভিড়ে ইসলাম পালন করতেছি পূর্ণ ভাবে এটা যদি কেউ মনে করে তবে সে বোকার স্বর্গে বাস করে।

নবী (সা) বলেছেনঃ সৎ সাথী ও মন্দ সাথীর উপমা মিশকধারী ও অগ্নিকুণ্ডে ফূৎকার দানকারীর (কামারের) মত । মিশকধারী (বিক্রেতা) হয়ত তোমাকে কিছু দিবে (সুগন্ধি নেওয়ার জন্যহাতে কিছুটা লাগিয়ে দেবে) অথবা তুমি তার নিকট থেকে কিছুটা খরিদ করবে পারতে কিংবা তুমি তার কাছ থেকে সুঘ্রাণ লাভ করবে । আর অগ্নিকুণ্ডে ফুকদানকারী হয়ত তোমার কাপড় পূড়িয়ে দেবে অথবা তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে । (সহিহ মুসলিম: হাদিস ৬৩৬১)

অনেকে প্রশ্ন করতে পারে তবে যারা পাপ করছে তাদের কি হবে? তাদের কে দাওয়াত দিবে। উত্তর হবে তাদের দাওয়াত দেবার জন্য তাদের একজন হবার দরকার নেই। নিজে দ্বীনদারদের দলে যোগ দিন। ফাসেকি কর্ম যারা করে, তাদের ফ্রেন্ড সার্কেল থেকে বের হয়ে যান। নিজে স্টাবল হওয়ার পর অন্য কাউকে দলে টেনে নিন। এরপর দাওয়াত দিন। নিজে দ্বীনদারদের দল ছুট হবেন না।

উপদেশ হিজবুত শয়তান ত্যাগ করে হিজবুল্লাহয় যোগ দিন। দুনিয়া ও আখিরাতে সুখে থাকুন।

তুমি আল্লাহ্‌তে ও পরকালে বিশ্বাস করে এমন কোনো জাতি পাবে না যারা বন্ধুত্ব পাতছে তাদের সঙ্গে যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করছে। হোক না কেন তারা তাদের পিতা-পিতামহ অথবা তাদের সন্তানসন্ততি অথবা তাদের ভাই-বিরাদর অথবা তাদের আ‌ত্মীয়-স্বজন। এরাই -- এদের অন্তরে তিনি ধর্মবিশ্বাস লিখে দিয়েছেন এবং তাদের বলবৃদ্ধি করেছেন তাঁর কাছ থেকে প্রেরণা দিয়ে। আর তিনি তাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি, তাতে তারা থাকবে চিরকাল। আল্লাহ্ তাদের উপরে প্রসন্ন থাকবেন, আর তারাও তাঁর প্রতি প্রসন্ন রইবে। এরাই হচ্ছে আল্লাহ্‌র দলের। এটি কি নয় যে আল্লাহ্‌র দলীয়রাই তো সাফল্যপ্রাপ্ত? (সূরা মুজাদিলাঃ ২২)

একাকী নিঃসঙ্গতার চেয়ে ভালো বন্ধু উত্তম আর নিঃসঙ্গতা মন্দ বন্ধুর চেয়ে উত্তম।

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক ইন শা আল্লাহ ’ লেখাটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে!

Post a comment

0 Comments